কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিন আজ।

0
503

আজ ২১ জুন, শুক্রবার। ২১ জুন ১৯৪৫, বাংলা ৭ আষাঢ় ১৩৫২ নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার কাশবনে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহন করে আমাদের সবার প্রিয় কবি ‘নির্মলেন্দু গুণ’।

তার ছেলেবেলা কাটে কাশবনে। তার পুরা নাম, নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী।

তাঁর বাবার নাম, সুখেন্দ প্রকাশ গুন এবং মায়ের নাম বিনাপনি।

নির্মলেন্দুর এর চার বছর বয়সে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয় এবং বাবা চারুবালাকে বিয়ে করেন।

তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে নির্মলেন্দু ভাইদের মধ্যে ছোট।

মা, চারুবালার কাছে নির্মলেন্দুর লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তিনি প্রথমে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউটে।

১৯৬২ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় দুই বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগ পান। স্কুল থেকে প্রথম বিভাগ পেয়েছিল মাত্র ৩ জন।

মেট্রিক পরীক্ষার আগেই নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কবিতা ‘নতুন কান্ডারী’ প্রকাশিত হয় নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায়৷

মেট্রিকের পর ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে চলে আসেন আই.এস.সি পড়তে।

নেত্রকোণায় ফিরে নির্মলেন্দু আবার ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকা এবং তার কবি বন্ধুদের কাছে আসার সুযোগ পায়।

১৯৬৪ সালে জুন মাসে আই.এস.সি পরীক্ষা দেন নির্মলেন্দু। ঢাকা বোর্ডে ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মধ্যে একমাত্র তিনি নেত্রকোণা কলেজের ছাত্র।

বাবার ইচ্ছা ছিল ডাক্তারী পড়া। কিন্তু তিনি চান্স পান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে।

চান্স পেয়েও হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কারণে তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হয় না।

আই.এস.সি-তে ভালো রেজাল্ট করে তিনি ফার্স্ট গ্রেড স্কলারশিপ পান। সেজন্য তিনি মাসে ৪৫ টাকা ও বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা পেতেন।

তিনি ১৯৬৯ সালে প্রাইভেটে বি.এ. পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পাড়ায় তিনি ১৯৬৫ সালে বুয়েটে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবনে কবি, স্বাধীনতার পূর্বে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সাংবাদিকতায় ও জড়িত ছিলেন।

কবি হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন চিত্রশিল্পী। তিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্য এবং ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন।

তাঁর কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে নারীপ্রেম, শ্রেণি-সংগ্রাম এবং স্বৈরাচার বিরোধিতা।

১৯৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হবার পর তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

কবি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমী , ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন।