৩ বন্ধু মিলে সহপাঠীকে অপহরণ, টাকা না পাওয়ায় খুন।

0
173

OURBANGLANEWS DESK।

ভৈরবে তিন বন্ধু মিলে অপহরণের পর মুক্তি-পণের টাকা না পেয়ে আরেক সহপাঠি বন্ধুকে হত্যা করে।

নিহত বন্ধু ফারদিন আলম রুপকের (১৬) বাবার নাম বিপ্লব মিয়া।

সে ভৈরব বাজার টিনপট্রি এলাকা বাস করত।

শহরে ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় আবু বকর সিদ্দিকের ভবনে গতকাল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে হত্যার ঘটনাটি ঘটে।

হত্যায় অভিযুক্ত বন্ধুরা ফজলে রাব্বি পিয়াল (১৬), আরাফাত পাটোয়ারী রাব্বি (১৬) এবং রেজাউল কবির খাঁন (১৭)।

ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় তিনজনের বাড়ী।

ভৈরব শহরে কে বি পাইলট হাইস্কুলের ছাত্র চার বন্ধুই এবার এসএসসি পাশ করেছে।

ভবন মালিক আবু বকর সিদ্দিক শুক্রবার সকালে ঘটনা টের পেয়ে তিন বন্ধুকে আটক করে, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ ও স্থানীয় কাউন্সিলর মোঃ দ্বিন ইসলামকে ঘটনাটি জানায়।

আবু বকর সিদ্দিকের নাতী অভিযুক্তদের একজন। একই ভবনের ভাড়াটিয়া বাকী দুজন।

আতিক আহমেদ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভবনের ছাদ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আটক করে তিন বন্ধুকে থানায় নিয়ে যায়।

তারা রুপককে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে।

এ ব্যাপারে আজ রাতে নিহতের বাবা থানায় বন্ধুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে রুপককে মোবাইলে জরুরী কথা আছে বলে তার বন্ধু আরাফাত পাটোয়ারী আবুবকর সিদ্দিকের ভবনে আসতে বলে।

অন্য দুই বন্ধু ফজলে রাব্বি পিয়াল এবং রেজাউল কবিরের সাথে শলাপরামর্শ করে রুপককে ডেকে এনে তার বাবার কাছে মুক্তিপণের টাকা চাইবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে বন্ধুর ফোন পেয়ে রুপক দ্রুত ওই ভবনে আসে।

তিন বন্ধু মিলে রুপক আসার পর তাকে জাপটে ধরে গলায় রশি বাঁধে।

তাকে এসময় বলা হয়, ‘তোর বাবাকে বল টাকা দিতে।’ প্রথমে রূপক রাজী হয়নি।

গলায় রশি পেচিয়ে ধরলে সে চাপে অজ্ঞান হয়ে যায়।

তারপর গলায় ছুরি চালালে ঘটনাস্থলে সে নিহত হয়।

রাতে তিনজন মিলে তার লাশ বস্তায় ভরে ছাদে রেখে সবাই নিজের বাসায় চলে যায়।

ভবন মালিক সকালে লাশের গন্ধ পেয়ে ছাদে বস্তাটি দেখতে পান।

পরে নাতীসহ তিনজনকে আটক করে, খবর দিলে পুলিশ তাদের নিয়ে যায়।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, ‘মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্যই তিন বন্ধু মিলে রুপককে হত্যা করে।

তারা পুলিশের কাছে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে।

এব্যাপারে তার পরিবার মামলা করার পর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।