৩২.০৪ কিলোমিটার গতিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের সুফিল।

0
183

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।


বাংলাদেশের ফুটবলারদের সম্পর্কে মাঝে মধ্যেই অভিযোগ করা হয় তাদের গতি কম। অথচ জাতীয় দল ও বসুন্ধরা কিংসে খেলা মাহবুবুর রহমান সুফিলের গতির পরিসংখ্যান তাক লাগানোর মতো।
বাংলাদেশের কোনো ফুটবলার কী সত্যি বল নিয়ে এত জোরে দৌড়াতে পারেন!


কম্বোডিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ টিমের গোলটি দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। রবিউল হাসান গোলটি করলেও দর্শক আশ্চর্যনিত হয়েছে মাহবুবুর রহমান সুফিলের ভোঁ-দৌর দিয়ে বলের যোগান দেয়া দেখে।


সুফিল লেফট ব্যাক সুশান্তের এরিয়াল থ্রু নিয়ন্ত্রণ করে রাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে ছুটেছেন ঝড়ের বেগে। কম্বোডিয়ান ডিফেন্ডার বাংলাদেশের এই উপন্যাসের সাথে দৌড়ে একবারেই কুলিয়ে উঠতে পারেননি।

বল পাযে বক্সে ঢুকে গোললাইনের কাছে গিয়ে বলটি রবিউল হাসানের সামনে এমনভাবে সাজিয়ে দিলেন যেন ভুল করার কোন সুযোগ নেই এবং সেই গোলের মাধ্যমে প্রায় তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জয়।


১৯ বছর বয়সী এই তরুন ফুটবলারের গতি জানলে রীতিমত অবাক হবেন। গত বছরের হিসাব অনুযায়ী সুফিল প্রতি সেকেন্ডে ৮.৯ মিটার এবং ঘন্টায় ৩২.০৪ কিলোমিটার বেগে দৌড়ান, যা রীতিমত অবিশ্বাস্য।

এই অবাক করা তথ্য এসেছে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস যন্ত্রের রিপোর্টে যা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ মারুফুল হকের কম্পিউটারে সংরক্ষিত আছে।


মারুফুল গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিপিএসের সূচনা করেন আরামবাগ ক্রীড়াসংঘকে দিয়ে। সুফিল ছিলেন তার অধিনায়ক। প্রায় প্রতিটি ম্যাচে ক্লাব পাড়ার খেলোয়াড়েরা মাঠে নামতেন জার্সির নিচে জিপিএস চিপ পরে।

যার থেকে বের হয়ে এসেছে এই তথ্য। অবাক করা তথ্য পাওয়া গেছে আরও একটি। তরুণ এই ফুটবলার ম্যাচে উইঙ্গার বা ফুলব্যাক হিসবে খেললে গড়ে ১২ কিলোমিটার দৌড়ান। সুফিলের সাবেক কোচ মারুফুল বলেন ও এই শক্তিটা পেয়েছে প্রকৃতিগত।

তার সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক কঠোর পরিশ্রম। তবে জন্মগতভাবে না পেলে কঠোর অনুশীলন করে গতি বেশি বাড়ানো যায় না।
গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, সর্ব্বোচ গতিসম্পন্ন ফুটবলারদের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড়দের গতি, রিয়াল মাদ্রিদের গ্যারেথ বেল (১ম) ।

২০১৮ তে সর্বোচ্চ গতি তুলেছিলেন ঘন্টায় ৩৬.৯ কিলোমিটার। ফ্রান্সেকে বিশ্বকাপ জেতানো কিলিয়ান এমবাপ্পে (২য়) ৩৬ কিলোমিটার। বেয়ার লেভারকুসেনে খেলা জার্মানির করিম বেলারাবির (১০ম) গতি ৩৫.২৭ কিলোমিটার।


রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়ানো ৫০ জনের মধ্যে শেষ ১৫ জনের গতি ৩২.০৪। যা সুফিলের গতির সমান। শেষ ১৫ জনে আছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড পাভোন, গ্রামীন ও ফ্রান্সের এমবাপ্পের মতো তারকা খেলোয়াড়। ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড আন্তে ররেবিচ দৌড়েছেন সর্বোচ্চ ৩৪ কিলোমিটার বেগে।


সুফিলের এই গতির রহস্য সম্পর্কে সুফল জানায় ‘আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক জোরে দৌড়াই। সাধারণত অনুশীলনে স্পিড ওয়ার্কের সময় অনেকেই ঢিলেমি করে।

কিন্তু আমি সব সময় সেরাটা দিয়েই দৌড়াই। কখনো দ্বিতীয় হওয়ার জন্য দৌড়াই না। আমার লক্ষ্য সব সময় প্রথম। সেই ছোটবেলা থেকেই, যা এখনো আছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে