১ মণ ধানে লস ২০০ টাকা।

0
331

OURBANGLANEWS DESK।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কৃষকরা এ বছরের বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

তারা চরমভাবে হতাশ ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে। ১ মণ ধান বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে না ১ কেজি গরুর মাংস।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোটালীপাড়া উপজেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিকটন।

লোকসংখ্যা অনুযায়ী এ উপজেলার চাহিদা ৬১ হাজার ৫৯৪ মেট্রিকটন।

সরকারিভাবে এ উপজেলায় ধান ক্রয় করা হবে মাত্র ৮২৪ মেট্রিকটন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী কৃষকদের মজুদ থাকবে প্রায় ১ লাখ মেট্রিকটন ধান।

উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছে এই ধান নিয়ে।

অনেক কৃষকের ঘরে রয়ে গেছে গত বছরের উৎপাদিত ধান।

গত বছর দাম কম থাকার কারণে কৃষকরা সব ধান বিক্রি করেনি।

তাই এসব কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর।

উপজেলার পূর্ণবর্তী গ্রামের কৃষক অলিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, এ বছর আমি ২৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি।

আমার ধান উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১২ শ মণ। বছরে ১ শ মণ ধান আমার পরিবারে খাবার জন্য প্রয়োজন হয়। আমি বাকি ধান বিক্রি করব।

বর্তমানে বাজারে মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫ শ টাকা করে। আমার প্রতিমণ ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৬ শ থেকে ৭ শ টাকা।

বর্তমানে বাজারে ধানের যে দাম আছে সেই দামে বিক্রি করলে প্রতিমণ ধানে লস হবে দেড় থেকে ২ শ টাকা।

কুরপালা গ্রামের চয়ন হাওলাদার বলেন, গত শুক্রবার ঘাঘর বাজারে মোটা ধান বিক্রি করেছি ৫ শ টাকা করে। বাড়িতে মেহমান থাকায় ৫৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে ১ কেজি গরুর মাংস।

এখন ১ মণ ধান বিক্রি করে ১ কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না।

শুনেছি ১০৪০ টাকা করে ধান ক্রয় করবে সরকার। ধান এই দামে বিক্রি করতে পারলে আমরা লাভবান হব।

উদীচী কোটালীপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক রতন সেন কংকন বলেন, ব্যক্তিজীবনে আমিও কৃষক।

আমি মনে করি কৃষকরা যদি আগামীতে রপ্তানিমুখী ধান চাষ করে তাহলে অনেকটা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে তারা।

এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে রপ্তানিমুখী ধান চাষে।

বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক কৃষিবিদ মাহামুদুন্নবী বলেন, কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষিতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে।

কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ ও ভর্তুকি বাড়ালে ধান চাষসহ অন্যান্য চাষে কৃষকদের খরচ কম হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, এ বছর কোটালীপাড়া উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এ উপজেলায় আমাদের হিসেব অনুযায়ী এ বছর ধান উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিকটন।

সরকারিভাবে ধান ক্রয় ও চাহিদাকৃত ধান বাদে কৃষকদের ঘরে ধান মজুদ থেকবে প্রায় ১ লাখ মেট্রিকটন।

আমি মনে করি আগামীতে এ এলাকায় অটোরাইস মিল স্থাপন করলে কৃষকরা সেই মিলে ধান সরবরাহ করে আর্থিকভাবে অনেকটাই লাভবান হতে পারবে।