হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮০টি পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়।

0
167


ইমন, OURBANGLANEWS DESK।

বগুড়া শাজাহানপুরের সাবরুল হিন্দুপাড়ায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় জীবন-যাপন করছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮০টি পরিবার। জান মাল রক্ষায় প্রতিরাতে পালাক্রমে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন তারা।
গ্রামবাসীরা জানান, সাবরুল উত্তরপাড়ার নুরুল ইসলামের পুত্র সন্ত্রাসী সেলিম বাহিনীর কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গবাদী পশু, ধান, চাল বিক্রি করলে সন্ত্রাসীদের টাকা দিতে হয়।

স্থানীয় বাজারে ব্যবসা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা-পয়শা কেড়ে নেয়। নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে ধরলে চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দিলে রাতে রাস্তায় ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে জান, মাল রক্ষা করতে প্রতিরাতে ২০ জন করে পালাক্রমে গ্রাম পাহারা দিতে হচ্ছে। গত ৫ বছর ধরে সেলিম বাহিনী তাদের ওপর অত্যাচার করে আসছে।
কিন্তু জীবনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি হিন্দুপাড়ার বিশু চন্দ্র সাহা নামে একজন সেলিম বাহিনীর প্রধান সেলিমকে প্রধান আসামি করে সহযোগী আপেল মাহমুদ, তারেক হোসেন, রিয়াদ মণ্ডলসহ ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাজাহানপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরও এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

যেকোনো সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালাতে পারে এমন অজানা আতঙ্কে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় সরকারের প্রতি কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে নির্যাতিতরা আরো জানান, হয় সরকার তাদের জীবনের নিরাপত্তা দেবে নতুবা ভারত চলে যাবে তারা।
অভিযুক্ত সেলিম হোসেন জানান, সাবরুল বড় হিন্দুপাড়ায় একটা ঝামেলা হয়েছিলো।

এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। বিষয়টি আপস-মিমাংসা করা হয়েছে। তবে মামলাটি বাদী তুলে নেয়নি। বর্তমানে ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি। এর পর থেকে হিন্দুপাড়ায় তার কোনো ঝামেলা হয়নি।
শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের পর টাকা উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিরা জামিনে রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। এরপর নতুন কোনো ঘটনা না ঘটলেও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে গ্রামটি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে