হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিববের জন্মদিন ও শিশু দিবস।

0
183

মাহিন,OURBANGLANEWS DESK।

আজ ১৭ মার্চ, রোববার। ১৭ মার্চ ১৯২০ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয় গোপালগঞ্জ মহকুমার পাঠাতাম ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়ায়। আজ দেশব্যাপী উদ্‌যাপিত হচ্ছে তাঁর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ।

বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে দিনব্যাপি নানা কর্মসূচির। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য: ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন’।

দিনব্যাপি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গ্রন্থমেলা ইত্যাদি। সারা দেশব্যাপী পালিত হবে এসব কর্মসূচি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় শিশু কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচীর।

ঢাকা ও বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, তাঁর বাণীতে বলেন, রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নীতি ও আদর্শের প্রতীক। দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও অধিকার আদায়ে জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন।

বঙ্গবন্ধু শিশুদের খুবই ভালোবাসতেন। তিনি জানতেন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বাণীতে বলেন, শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ এবং সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করা এবং শিশুদের কল্যাণে বর্তমানকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সবাই মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।

দিনব্যাপি কর্মসূচি

আজ ভোর সাড়ে ছয়টায় আওয়ামী লীগ ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু ভবন ( বর্তমান বঙ্গবন্ধু জাদুঘর) ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ।

সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ।

সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধিদল এরপর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন তারা। এ ছাড়া সেখানে শিশু সমাবেশ, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে অভিবাদন জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল।

এরপর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে পাঠ করা হয় সূরা ফাতিহা।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা, উপজেলা সদরে আনন্দ শোভাযাত্রা, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, জেলা, উপজেলা সদরে সপ্তাহব্যাপী বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, কমিউনিটি রেডিও এবং এফএম রেডিও সমূহ এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছে।

এছাড়াও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিশু একাডেমী এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা তথ্য অফিসগুলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতা, পুষ্টি ও খাদ্য সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা সভার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে