স্পষ্ট তানিয়াকে ধর্ষণের আলামত।

0
189

OURBANGLANEWS DESK।

ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

৮ মে বুধবার বিকালে তিনি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিভিল সার্জন জানান, জবরদস্তির অনেক চিহ্ন রয়েছে তানিয়ার ঠোঁটে, হাতে এবং পুরো শরীরে।

কোথাও কোথাও নখের আঁচড় আছে। ধর্ষণের কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং বীর্যের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ময়নাতদন্তের সময় সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখেছি। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত।

ধর্ষণের পর তার মাথার পেছনে প্রচণ্ডভাবে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। মাথার খুলির পেছনের অংশ দুই ভাগ হয়ে গেছে।

মাথার ভেতর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এমন আঘাতের পর সঙ্গে সঙ্গে মারা যাওয়ার কথা।

যদি সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু নিশ্চিত না হয় তবে সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট বেঁচে থাকার সম্ভাবনা আছে।’

অভিযোগ উঠেছে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনের বাসে সোমবার রাতে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বাজিতপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়া এলাকায়।

কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সেবিকা পদে কর্মরত ছিলেন।

৬ মে সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন।

বাজিতপুর থানায় তানিয়ার বাবা গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলায় আসামি করা হয় নাম উল্লেখসহ চারজন এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৬ মে সোমবার রাতেই পুলিশ এ ঘটনায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার নূরুজ্জামান ওরফে নূর মিয়া (৩৮) স্বর্ণলতা বাসের চালক ও লালন মিয়া (৩২) হেলপারকে আটক করেছে।

পুলিশ পাশাপাশি ওই বাসের পিরিজপুর ও কটিয়াদীর দুই লাইনম্যানসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ‘মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে চালক ও হেলপারসহ সন্দেহভাজন আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত অন্য দুই আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

আটককৃত পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।’

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতে তানিয়ার লাশ মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।