স্ত্রীকে জবাইয়ের ২১ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী গ্রেপ্তার।

0
172

OURBANGLANEWS DESK।

বাগেরহাটের শরণখোলায় লাকি বেগম হত্যার ২১ ঘণ্টার মাথায় পুলিশ ঘাতক স্বামী নূরুল আমিন হাওলাদারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

খুন করে ঘাতক শ্যালককে ফোন দিয়ে বলেন, ‘তোর বোনকে জবাই করেছি। বাড়িতে গিয়ে দ্যাখ। আমি আমার ছেলে-মেয়ে নিয়ে গেলাম।’

উপজেলার আমড়াগাছিয়া সাতঘর এলাকার নিজ বসত ঘরে নূরুল আমিন তার স্ত্রি লাকি বেগমকে (২৮) ব্হস্পতিবার ভোর ৪ টার দিকে সিলিং ফ্যানের বাট দিয়ে পিটিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে,

ঘাতক তার আট বছরের ছেলে জিহাদ ও দুই বছরের মেয়ে জেরিনকে নিয়ে পালিয় যান।

ওই রাতে নূরুল দুই সন্তানকে তার এক বোনের বাসায় রেখে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানার এসআই সুদেব পাল জানান, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নূরুল আমিনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এসআই আমির হোসেনসহ পুলিশের একটি দল, সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশের সহায়তায় রাত ১২টার দিকে সোনাডাঙ্গা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শরণখোলায় নিয়ে আসে।

এই কর্মকর্তা হত্যার ব্যাপারে জানান এই মামলায় আরো কয়েকজন অজ্ঞাত আসামি আছেন। তবে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

লাকির ভাই নূরুল ইসলাম হাওলাদার বাদি হয়ে ওইদিন সকালে তার ভগ্নিপতিসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের নামে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্র ধরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে।

জানা যায়, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া কালিবাড়ি গ্রামের খলিল হাওলাদারের মেয়ে লাকির রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আবদুল হক হাওলাদারের ছেলে নূরুল আমিনের আট বছর আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। পুলিশ ধারণা করছে এই কলহের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ভারতের কেরালায় শ্বশুরের ভাঙ্গারির ব্যবসা দেখাশুনা করতেন নূরুল আমিন। তিনি ভারত থেকে ঘটনার আগের দিন বুধবার দেশে আসেন।