স্কুল ড্রেসে রাজশাহীর অন্নপূর্ণা হোটেলে পাঁচ টাকায় মেলে দুপুরের খাবার।

0
173

OURBANGLANEWS DESK।

স্কুল ড্রেসে থাকলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকার ‘অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ পাঁচ টাকায় মিলছে দুপুরের খাবার।

আড়ানী এলাকার বাসিন্দা হোটেল মালিক বিপ্লব সরকার শুধু স্কুল শিক্ষার্থীদের তিন বছর ধরে এ সেবা দিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, সংসারের অভাব-অনটনে শ্যামল সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার পড়ালেখা করেছেন নবম শ্রেণি পর্যন্ত।

এরপর তিনি বাবার পথ ধরে রেস্টেুরেন্টের ব্যবসায় নামেন। পাশাপাশি তার লেপ-তোষকের দোকানও রয়েছে।

আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরত্ব অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের।

বিপ্লব দুপুরে হোটেলে বসে দেখতেন ওই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী টিফিন নিয়ে আসতো না। আবার অনেকের সামর্থ্য নেই বেশি টাকা দিয়ে হোটেলে দুপুরের খাবার খাওয়ার।

স্কুলে এসে টিফিনের সময় তারা আশপাশের দোকান থেকে মুখরোচক কিছু কিনে খায়। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অথচ তাদের শরীর ভালো থাকে দুপুরে এক প্লেট ভাত খেলে। পাঁচ বছর আগে এই চিন্তা থেকে বিপ্লব বাবার অগোচরে এই প্যাকেজ চালু করেন।

শিক্ষার্থীরা তখন থেকে এই হোটেলে খেতে আসতে শুরু করে। তবে দুই বছর পর তার বাবা বিষয়টি জানতে পারেন।

জানা গেছে, আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় ও আড়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থী টিফিনের সময় এই হোটেলে পাঁচ টাকার প্যাকেজের খাবার খায়।

শিক্ষার্থীদের এই প্যাকেজে ভাত, ডাল, ভাজি ও ভর্তা দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে পাঁচ টাকার প্যাকেজে মাছ-মাংসও দেওয়া হয়।

তবে শর্ত একটাই, স্কুল ড্রেসে আসতে হবে শিক্ষার্থীদের।

অন্নপূর্ণা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক বিপ্লব সরকার এ ব্যাপারে বলেন,

‘সকালে বিদ্যালয়ে এসে অনেকেই টিফিনে বাড়িতে যেতে না পারায় হোটেলে শিঙ্গাড়া ছাড়াও তেলজাতীয় খাবার খেতে আসতো, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তাই তাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে শিঙ্গাড়া বাদ দিয়ে ভাত-সবজি খাওয়ানোর পরিকল্পনা করি। পরে তাদের জন্য এই প্যাকেজ চালু করি।’

আরও বলেন বিপ্লব সরকার, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক পরা থাকলেই পাঁচ টাকার বিনিময়ে দুপুরের এই খাবার খেতে পারবে।

তবে দুপুর ছাড়া অন্য সময় আসলে এই মূল্যে খাবার দেওয়া হয় না।’

বিপ্লব সরকারের বাবা শ্যামল সরকার বলেন, ‘ব্যবসার লাভ-লোকসানের কথা ভেবে প্রথমে ছেলেকে অনেক বকাবকি করেছি।

কিন্তু এখন বুঝতে পারছি সব জায়গায় লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ করা যাবে না। ছেলের এ ধরনের উদ্যোগে আমি গর্বিত।

এখানে অনেক গরিব পরিবারের ছেলেমেয়ে আছে। তারা সংসারের অভাবের কারণে ঠিকমতো খাবারও খেতে পায় না।

তারা অল্পমূল্যে এই খাবার খেয়ে যেন স্কুলমুখী হয়ে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হয়। তখনই আমার ছেলের উদ্দেশ্য সফল হবে।’

আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন,

‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী বিপ্লব সরকারের দোকানে দুপুরের খাবার খায়।

এটা তার প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’