সেতু নির্মাণে ‘চমক’ দেখালো জাপানিরা

0
257

OURBANGLANEWS DESK।

জপানিরা ‘চমক’ দেখালো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু নির্মাণে সময় ও অর্থ বাঁচিয়ে।

এক মাস আগেই তারা সেতুর নির্মাণ শেষ করেছে।

কেবল তাই নয়, সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়ে ‘চমক’ দেখিয়েছে।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা জাপানি বিনিয়োগে দেশে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে ‘কালো ছায়া’ ফেলেছিলো।

জাপানিরা ওই হামলায় আক্রান্ত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মাণাধীন মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পেও তার প্রভাব পড়ে।

তবে জাপানের তিন নির্মাণ কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্মাণ কাজ করে রীতিমতো চমক দেখিয়েছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি হলি আর্টিজানের ঘটনায় প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ রাখে।

এজন্য তারা প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোরও আবেদন করে।

কিন্তু ৬ মাস তো দূরে থাক, আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই তারা নির্মাণ শেষ করেছে।

কেবল তাই নয়, সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েও ‘চমক’ দেখিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেখানে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উল্টো দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর ‘ধান্দা’য় থাকে, সেখানে জাপানিরা নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করে তাদের চমক দেখিয়েছে।

অন্যদিকে প্রায় হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়াও একটি জাপানি শিক্ষা।

গণমাধ্যমকে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ মাস আগেই শেষ হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৫ মে এই সেতুর উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া একই সময়ে উদ্বোধন করা হবে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুও।

তিনি জানান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে মোট ৭৩৮ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধন করেছেন।

সেতু বিভাগ বলছে, আগে চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে একলেনে উঠতো।

যাত্রী ও চালকেরা পড়ে ভোগান্তিতে পড়তেন পুরাতন সেতুটি বেশি ঢাল এবং যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের আটকা।

১৬টি পিলার রয়েছে এক হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর।

এই সেতু নির্মাণে ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আর ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতু পুনঃনির্মাণের জন্য।

উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে পুরাতন সেতুর পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে।

প্রকল্প অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালে।

কিন্তু তার বেশ কয়েকমাস আগেই শেষ হবে নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান সেতুর সংস্কার কাজ।

এই সেতু নির্মিত হয়েছে জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর।

এ ধরনের প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে এটাই প্রথম সেতু। এর আগে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ভিয়েতনাম ও জাপানে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়েছিল গড়াই ব্রিজ নির্মাণের কাজ (১৯৯০ সালে)।

এরপর নির্ধারিত সময়ের আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল।

সবগুলো কোম্পানি ছিল জাপানের। নির্ধারিত সময়ের আগে বাংলাদেশে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ইতিহাস একমাত্র জাপানিদের। আর কারও নেই।

তারাই ১৯৯৫ সালের পর এই কাজটা করল।