সেই কিশোর আল-হাওয়াজ সৌদি শিরশ্ছেদের শিকার।

0
283

OURBANGLANEWS DESK।

তখন মাত্র ১৬ বছর আবদুল করিম আল-হাওয়াজের, তাকে যখন জেলে পোরা হয়। সৌদি আরবে একদিনে তারও শিরশ্ছেদ হয়েছে অন্য ৩৬ জনের সঙ্গে।

মাত্র ২১ বছর বয়সী তরুণের দীর্ঘ ৫ বছর জেলভোগের পর মস্তক ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন হলো জনসম্মুখে। গোটা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে তার রক্তস্নাত দেহটি।

আল-হাওয়াজের কিশোর বয়সে জেল হয়। তার দুঃস্বপ্নের মতো ভবিষ্যত জেনে সে বছরের পর বছর দিন কাটিয়েছে।

ব্যর্থ হয়েছে একের পর এক আপিল। তিনি সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সুন্নী অধ্যুষিত সৌদি আরবের। তিনি সৌদি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা।

তার শাস্তি নির্ধারণ করা হয় সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কারণে। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, প্রহসন ছিল এই তরুণের বিচার।

তাকে নিজের দোষ শিকার করে নিতে বাধ্য করা হয় নির্যাতন এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিতে।

তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এই পদ্ধতিতেই। তিনি অস্বীকৃতি জানান বিচার প্রাপ্তির জন্যে একজন আইনজীবী নিয়োগে।

অবশেষে যখন ঘনিয়ে আসে শাস্তির দিনটি, আরো ৩৬ জনের সঙ্গে আবদুলকরিম আল-হাওয়াজকে হাজির করা হয়।

জনসম্মুখে কেটে ফেলা হয়েছে তাদের সবার মস্তক। রিয়াদ, পবিত্র মক্কা ও মদিনার শহর, কেন্দ্রিয় কাসিম প্রদেশ এবং ইস্টার্ন প্রদেশে।

শিরশ্ছেদ করা হয়েছে মূলত শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে।

লিন মালৌফ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিডল ইস্ট রিসার্চ ডিরেক্টর জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের এক গা শিউরানো প্রদর্শনী এমন শাস্তি।

সেইসঙ্গে এক ভয়ংকর মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেশের ভিন্নমতাবলম্বী শিয়াদের দমনে যা কিনা ব্যবহৃত হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে।

আল-হাওয়াজের পরিবারের জন্যে এটাই স্বান্তনার বিষয়, সবার সামনে তাদের পুত্রের শিরশ্ছেদের ঘটনা প্রদর্শন করা হয়নি।

কিন্তু এতটা ভাগ্যবান ছিলেন না অন্যরা। বাকিদের একই শাস্তি প্রদান করা হয়েছে কিংডমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অপরাধে।

এই ৩৭ জনকে ‘চরমপন্থী মতাদর্শ ধারণ, সন্ত্রাসবাদের লালন’ এবং ‘সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিনষ্টের অপরাধে অভিযুক্ত বলে জোর দাবি তুলছেন সৌদির আইন প্রণেতারা।

সৌদি প্রেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এরা সবাই জড়িত একটা নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালিয়ে কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার সঙ্গে।
‘শাম ট্রায়াল’

সৌদিতে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারির পর একদিনে এটাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের শিরশ্ছেদের ঘটনা।

এর আগে ৪৭ জনের শিরশ্ছেদের ঘটনা ঘটে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অপরাধে।

এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, চরমপন্থী মতাদর্শ ধারণ করে এরা সবাই সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করেছিল।

রিয়াদের স্পেশালাইজড ক্রিমিনাল কোর্টে দেশের আইন অনুযায়ী তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি জানায়, ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয় এই ৩৭ জনের মদ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়’পরিষ্কারভাবে অন্যায্য বিচারের’ মাধ্যমে।

২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয় আরো ১৪ জনের বিরুদ্ধে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শিরশ্ছেদকৃতদের মধ্যে খালেদ বিন আবদেল করিম আল-তোয়াজরির দেহটি ঝুলিয়ে রাখা হয় একটি খুঁটিতে।

তিনি অভিযুক্ত ছিলেন সুন্নী বিদ্রোহী হিসেবে। যদিও সরকার পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়নি তার এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে।

বছরের শুরু থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১০০-তে দাঁড়াল সর্বসাম্প্রতিক এই শিরোশ্ছেদের মাধ্যমে।
সূত্র: দ্য সান

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে