সিঙ্গাপুরে পাঠানো যাচ্ছে না অগ্নিদগ্ধ মেয়েটিকে।

0
146

OURBANGLANEWS DESK।

অধ্যাপক আবুল কালাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারির বিভাগীয় প্রধান জানিয়েছেন

ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ থাকায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না ফেনীর সোনাগাজীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর।

মঙ্গলবার ০৯ এপ্রিল সকালে তিনি জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন আকাশপথে পরিবহনে ঝুঁকি রয়েছে মেয়েটির।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর চিকিৎসার ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ভিডিও কনফারেন্স হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের।

অধ্যাপক আবুল কালাম কনফারেন্সের পর জানান, মারাত্মক সংক্রমণ রয়েছে মেয়েটির ফুসফুসে।

এ মুহূর্তে মেয়েটিকে আকাশ পথে পরিবহনে ঝুঁকি রয়েছে ফুসফুসে সংক্রমণ থাকায় বলছেন, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি জানান।

প্রতিদিন মেয়েটির চিকিৎসা নিয়ে তারা আলোচনা করবেন। গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় মেয়েটির শারীরিক অবস্থার সমস্ত প্রতিবেদন।

এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের দুই দেশের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত সময়ে সময়ে অবহিত করা হচ্ছে তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে।

দেশের চিকিৎসকেরা এর আগে জানিয়েছিলেন, অগ্নিদগ্ধ মেয়েটির ফুসফুস ওঠানামা করতে পারছে না বুক-পিঠ পুড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে বলে।

তাঁরা একটা পরিকল্পনা করেছিলেন দুই পাশে অস্ত্রোপচার করার, ফুসফুসটা যেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে তার আগেই।

মঙ্গলবার অধ্যাপক আবুল কালাম জানান, আজ অস্ত্রোপচারটি করা যেতে পারে ফুসফুস যেন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে।

খুবই সংকটজনক অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রীর অবস্থা। তাঁকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থায় (লাইফ সাপোর্ট) সোমবার রাখা হয়।

রোববার রাতে মেয়েটি নাম বলেছেন তাঁকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত একজনের। ছাত্রীটি চিকিৎসকের কাছে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, এ ঘটনায় অংশ নেন চারজন।

অন্তত দুজন নারী এঁদের, ‘শম্পা’ একজনের নাম। হামলাকারীদের নেকাব, বোরকা, হাতমোজা পরা ছিল।

মামলার এজাহারে মেয়েটির ভাই উল্লেখ করেন, সোনাগাজীর ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ তাঁর বোনকে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন আলিম পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেবেন বলে।

তাঁদের মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় ওই দিনই মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তাঁদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর বোন আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে যান ৬ এপ্রিল সকাল পৌনে ১০টার দিকে।

বোরকা পরা একটি মেয়ে এরপরই তাঁকে জানান, ছাদে মারধর করা হচ্ছে নিশাত নামের এক বান্ধবীকে।

তিনি খবর পেয়ে যান মাদ্রাসার ভেতরের সাইক্লোন শেল্টারে তৃতীয় তলার ছাদে। তাঁর বোনের গায়ে সেখানে ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে