শত প্রচেষ্টায়ও থেমে নেই জাটকা নিধন।

0
248

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। ইলিশের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসন গ্রহন করেছে নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এত কিছুর পরও বন্ধ হচ্ছে না চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় জাটকা নিধন।

দিনের বেলায় সুযোগ না পাওয়ায় রাতের আঁধারেকে বেছে নিচ্ছে জাটকানিধননের জন্য।
প্রতিরাতে কয়েক শ মণ জাটকা নিধন হচ্ছে জেলার বিস্তীর্ণ নদী থেকে। এই ঘটনায় খুব্দ হয়ে জেলা জাটকা রক্ষা টাস্কফোর্স কমিটি আরো কঠোর ভূমিকা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার ঘোষিত ৬টি অভয়াশ্রমের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অভায়াশ্রমটি চাঁদপুরে উত্তরে ষাটনল থেকে দক্ষিণে চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার বিস্তৃত।

এই এলাকায় নদীর তলদেশের মাটির গুণাগুণের কারণে ইলিশের বিশেষ খাদ্য প্লাংটন বেশী জন্মে। যা স্বাদ এবং গন্ধ বৃদ্ধি করে ইলিশের পূর্ণতা বাড়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সময় এখানে জাটকার আধিক্য হয়। এই সুযোগে জেলের খুব সহজেই ছোট ছোট কারেন্ট জাল দিয়ে ‌জাটকা নিধন করছে।


জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের জেলের রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে জাটকা আহরণ করছে। প্রশাসনের নজরদারির কারণে দিনের বেলায় তারা একাজ থেকে বিরত থাকে। প্রতিরাতে ধরা জাটকার চালান ভোর রাতে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় পাচার করছে একশ্রেণির দালাল।

ইতিমধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঁদপুরে এমন বেশকিছু যানবাহন জাটকার চালানসহ আটক করছে।
নদীপাড়ে বসবাসকারীদদের থেকে জানা যায় মধ্যরাতে দুই একঘণ্টা নদীতে কারেন্ট জাল ফেলে ননিধন করা হচ্ছে জাটকা, পরে আলো ফোটার আগেই নদীপাড়ের আরেকটি পক্ষ নামমাত্র মূল্যে জাটকাগুলো কিনে পাচার করছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

যদি ভোরে নজরদারি করা হয়, ধরা পড়বে জাটকা নাদেনিধনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। এদিকে, কোনো কোনো জেলে পেটের দায়ে নদীতে নামছেন, এমনটা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। লোভে পড়ে নিজে এবং শিশু সন্তানদের দিয়ে জাটকা নিধন করছেন।


চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, জাটকা রক্ষার দুই মাস ছাড়াও আরো দুই মাস মিলে মোট চার মাসে জেলে পরিবারপ্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে চাল দেওয়া হচ্ছে।

এতে জেলার প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে পরিবার এই প্রণোদনা পাচ্ছেন। কিন্তু তারপরও কোনো জেলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চললে তাদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।


দেশের শীর্ষ মৎস্যবিজ্ঞানী, ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, “মৌসুমের এই সময় জাটকা রক্ষা করা না গেলে, ইলিশ উৎপাদনে নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তাই যেকোনো মূল্যে জাটকা রক্ষা করা প্রয়োজন।”

‘এই ক্ষেত্রে জেলেসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এক হয়ে সরকারকে সহযোগিতার তাগিদ দেন তিনি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে