রোহিঙ্গা নিয়ে বিপদে উখিয়া এবং টেকনাফবাসী।

0
199

OURBANGLANEWS DESK।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এখন নিজেরাই বিপদে রয়েছেন, উখিয়া এবং টেকনাফবাসী।

আবাদি জমি দখল হয়ে গেছে। অপরাধ বাড়ছে। এর মধ্যে আজ পালিত হলো, বিশ্ব শরণার্থী দিবস।

শরণার্থী, ত্রাণ এবং প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন,

‘বর্তমানে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফ দুটি উপজেলায় সর্বশেষ ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা রয়েছে।

এখানেও শরণার্থী দিবস পালিত হয়েছে। জেলায় বিপুল পরিমাণ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়া স্থানীয়দের জীবন-যাপন প্রচণ্ড চাপে রয়েছে।’

টেকনাফে লবণ চাষি মোহাম্মদ ছুপি জানান, মিয়ানমার থেকে শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

থাকার ব্যবস্থা এবং খাবার দিয়েছেন তার জমিতে। কিন্তু, এখন একদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার মূল পেশা লবণ চাষ।

মোহাম্মদ ছুপি বলেন, ‘আমাদের লবণের ক্ষেত ও চাষের জমি বলতে গেলে ওদের দখলে।

আমার জমিতে রোহিঙ্গাদের দুইশ’ মতো পরিবার বাস করছে।

লবণ চাষের সময়ে চাষ করতে পারিনি।আমার মতো অনেক মানুষ এই পরিস্থিতির শিকার।’

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘রোহিঙ্গারা কৃষি জমিতে আশ্রয় নেওয়ার কারণে অনেকের কৃষি কাজ বন্ধ রয়েছে।

অর্থের অভাবে স্থানীয় শ্রমবাজারে সস্তায় কাজ করছেন রোহিঙ্গারা। যার ফলে স্থানীয় শ্রমবাজারে স্থানীয়দের আর কাজ জুটছে না।

এমনকি হত্যা ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা।

ফলে এখানকার মানুষ ভয়ে জীবন-যাপন করছেন। কেননা স্থানীয়দের চেয়ে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা এখানে দ্বিগুণ।’

দুই বছরে শিশু জন্ম?
কক্সবাজার সির্ভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই বছরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অন্তঃসত্ত্বা ছিল প্রায় ৩৭ হাজার নারী।

তার মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব করেন, ৯ হাজার ৩৪৯ জন নারী। বাকিগুলো হয়েছে হোম ডেলিভারি।

তবে শরণার্থী, ত্রাণ এবং প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় থেকে জানা গেছে,

বাংলাদেশে আসার পর শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গারা গত দুই বছরে আনুমানিক ৫০ হাজার শিশুর জন্ম দিয়েছ।

প্রত্যাবাসন ঘাট
চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পড়ে আছে দুটি প্রত্যাবাসন ঘাট কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম

এবং টেকনাফের কেরণতলী (নয়াপাড়া)। কথা ছিল রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো হবে ঘুমধুম পয়েন্ট দিয়ে স্থলপথে এবং কেরণতলী পয়েন্ট দিয়ে নাফ নদী হয়ে নৌপথে।

এদিকে গত ১৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। যারা এসেছে, এ সময়ে তাদের প্রায় কেউই আর ফিরে যায়নি।

এক পরিবারের দুই সদস্য ২০০৫ সালের জুলাই মাসে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার পর আর কোনও রোহিঙ্গা দেশে ফেরত যায়নি।

অপরাধে জড়িত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ইয়াবা বহন, সেবন এবং কেনাবেচার অভিযোগে গত এক বছরে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গাকে একশটি মামলায় আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ২০ জন রোহিঙ্গাকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছুরিসহ আটক করা হয়।

গত দেড় বছরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দেওয়ার সময় প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে, ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে।

তবে, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাড়ার পর ২০১৬ সালের তুলনায় অনেক বেশি ইয়াবার চালান এবং পাচারকারী ধরা পড়েছে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে।

কক্সবাজারে গত এক বছরে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েছে ৪০ জন রোহিঙ্গা।

এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ১৭টি মাদক মামলা দায়ের করে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বাড়ি নয়।

আমরা চিরদিন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে থাকতে চাই না। আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই, তবে নাগরিক অধিকার, ধন-সম্পদসহ সবকিছু দিতে হবে।’

উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন,

‘রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পাহাড়ের তীরে হওয়ায় বিশাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানে অপরাধ প্রতিদিনই বাড়ছে।’

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হয় বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী আসা।