রোনালদিনহো-ম্যারাডোনা-মেসির শেষ যাত্রায় নাচতে চান আইদুরা

0
237

রোনালদিনহো- ম্যারাডোনা -মেসির শেষ যাত্রায় নাচতে চান আইদুরা

ছবির মানুষদের চিনতে পেরেছেন? চিনতে পাড়ারই কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কারোরই চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। ঘানার এই ‘ডেন্সিং পলবিয়ারারস’ বা নাচুনে শববাহকদের এখন সবাই চেনেন।

কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরাল হয়ে গেছেন ঘানার এই শববাহকেরা। ভিডিওটিতে তাদের দেখা যায় কফিন নিয়ে নেচে গেয়ে শেষ যাত্রায় যাওয়ার দৃশ্য। শেষ যাত্রাকে আনন্দময় করে তোলার জন্য নেচে গেয়ে কফিন বয়ে নিয়ে যান বেঞ্জামিন আইদু ও তার দল। বেঞ্জামিন আইদুর স্বপ্ন, তাঁর প্রিয় তারকাদেরও একদিন বয়ে নিয়ে যাবেন।

২০০৭ সালে বেঞ্জামিন আইদু ঘানার আক্রায় প্রতিষ্ঠা করেন নানা ওতাফ্রিজা পলবিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে তারা নাচ ও গানের মাধ্যমে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মৃত ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন।

আইদুর দাবি করেন, ‘কিছু মানুষ এখন আর কাঁদতে চায় না। অন্যরা কাঁদে। কিন্তু তাঁরা কাঁদতে চান বা না চান, আমরা সবাইকে খুশি করি। আমরা যা করি, তাতে অন্যরা খুশি হয়’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইদু ও তাঁর প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে গেছেন। তাদের ভিডিও দিয়ে মিম বানানো হচ্ছে। তাদের ভিডিও ব্যাবহার করা হচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজে। এমনকি লেগো সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের অনুকরণে।

ফরাসি ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফুত মেরকাতো তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা সুযোগ পেলে কোন ফুটবলারের শেষকৃত্যে নাচতে চান কি? সাথে সাথেই আইদু উত্তর দেন, ‘আমি অবশ্যই দীর্ঘ আয়ু কামনা করি তাঁদের। কিন্তু যদি সুযোগ পাই, স্বপ্ন দেখি রোনালদিনহোর শেষকৃত্যে নাচছি। এর পর ম্যারাডোনা এবং সবশেষে মেসি। রোনালদিনহো হচ্ছেন এমন একজন যিনি সব সময় আমাকে মুগ্ধ করেছেন। এটা হচ্ছে একজন নৃত্যশিল্পীর পক্ষ থেকে আরেক শিল্পীর প্রতি অর্ঘ্য যিনি ফুটবল মাঠেই নাচতেন’।

অবশ্য এই বার্সেলোনা সমর্থক ক্লাবের একজন ফুটবলারকে দেখতে পারেন না। ক্লাবের হয়ে লুইস সুয়ারেজের সাফল্য যেন তাঁর সহ্য হয় না। তার কারন হয়ত, ২০১০ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে প্রথমবারের মতো ঘানাকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে আটকে দেয়া। সুয়ারেজ হাত দিয়ে বল আটকে দিলে ঘানা দল পেনাল্টি পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন ঘানার আসামোয়াহ জিয়ান।

সুয়ারেজের কারণে বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হওয়ার দুঃখ এখনো কাঁদায় আইদুকে। আইদু জানায়, ‘(সুয়ারেজের কারণে বার্সা সাফল্য পেলে) আমি দ্বিধান্বিত থাকি, লজ্জা পাই। খুব খারাপ লাগে। যখনই এই খেলোয়াড়কে দেখি, যখনই সুয়ারেজ নামটা শুনি আমার মন খারাপ হয়। তার এক হাতের কারণে আমার ঘানা দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি, এটা জঘন্য একটা অনুভূতি’।

আইদু সুয়ারেজ সম্পর্কে বলেন, ঘানায় সুয়ারেজ নামটা অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে সুয়ারেজের নামটার একটা অর্থ আছে। সুয়ারেজ মানে অসম্ভব। যদি কিছু অর্জন করতে চান বা কোথাও যেতে চান কিন্তু সেখানে সুয়ারেজ আছে, তাহলে আপনি সাফল্য পাবেন না। আপনি মন থেকেই যতই চান না কেন, সুয়ারেজ থাকা মানে, আপনি সেটা পাবেন না।’

তাই বোঝাই যাচ্ছে, সুয়ারেজ চাইলেও তার শেষকৃত্যে আইদুদের সেবা পাবেন না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে