রিলিজ পেয়ে রাস্তায় হাটতে চাই, বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে বলতে চাই ‘আমি সুস্থ্য’

0
508

“রেজাল্ট পর পর দুই বার নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত রিলিজ পাবো না।”

আবরার জাওয়াদ , কালের সমাচার ।

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ ই মার্চ। এর পর থেকে বাড়তে থাকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েছেন অন্যদিকে অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

এমনি একজন ফাহিম তরঙ্গ। ১৮ বছরের এই সদ্য কৈশর পার করা ছেলেটি গত ৩ রা জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, বর্তমানে সে সুস্থ হওয়ার পথে। আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি কিভাবে থেকেছেন?

প্রশ্ন: কেমন আছেন?
– আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

প্রশ্ন: আপনি কিভাবে বুঝতে পারেন আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন?
– আমার জ্বর আসে মে মাসের ২২ তারিখে, সাথে কাশি ছিলো। মাথা ব্যাথা হতো। ২৪ তারিখ ভোর থেকে নাকে গন্ধ পেতাম না। এদিনই আমি হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যাই। গলায় ছোট কিছু বেঁধে থাকলে যেমন ব্যাথা হয়, তেমন ব্যাথা হতো আমার। জিহ্বায় স্বাদ পেতাম না।

প্রশ্ন: জ্বর কি বেশি ছিলো?
– না। প্রথম দুই একদিন ছিলো। বেশি না ১০১-২° ফারেনহাইট।

প্রশ্ন: শ্বাসযন্ত্রের কোন সমস্যা হয়েছিল কী?
– না। শুধু গলায় ব্যাথা ছিলো।

প্রশ্ন: করোনার টেস্ট কীভাবে করালেন?
– বাবা সিভিল সার্জনের অফিসে ফোন দিয়েছিল। ওখান থেকে লোক এসেছিল। গত মাসের ২৭ তারিখে আমার নমুনা নিয়ে যায়। এই মাসের ৩ তারিখে রেজাল্ট পজেটিভ আসে।

প্রশ্ন: আপনার কী মনে হয়, আপনি কিভাবে করোনায় আক্রান্ত হলেন?
– করোনা হওয়ার আগে আমি ত্রাণের জন্য বাজার করতে গিয়েছিলাম বড়বাজারে। সেখান থেকে হতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি কি মাস্ক পড়েছিলেন?
-জ্বি পড়েছিলাম।

প্রশ্ন: আপনার কোন বন্ধু অথবা পরিবারের কারো মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিয়েছে?
– আমার বন্ধুদের কারো কিছু হয় নি। তবে আমার পরিবারের আরেক সদস্যের করোনা হয়েছে। এই মাসের ৯ তারিখে তার করোনা রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে। সে বাসা থেকে কোথাও বের হয় না, তাই ধারণা করা যায়, আমার থেকেই সে এফেক্টেড হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার বাবা-মা কেউ অসুস্থ হয়েছে?
– না। তাঁরা পুরোপুরি সুস্থ্য।

প্রশ্ন: আপনার পরিবারের বাইরে পরিচিত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন?
– আমার এক কাজিনের হয়েছিল। সে সুস্থ হয়ে গেছে।

প্রশ্ন: তার ক্ষেত্রে লক্ষন কষ্ট কি একই ছিলো?
– না। তার প্রচণ্ড গলা ব্যাথা ছিলো, শ্বাসকষ্টও হতো। প্রায় ৯ দিন জ্বর ছিলো।

প্রশ্ন: করোনা পজেটিভ হওয়ার পর আপনি কিভাবে ছিলেন।
– করোনা হওয়ার পরেই আমি বাসার নিচের রুমে চলে আসি। এই রুমে আমি একা থাকি। রুমের সামনে একটা ছোট টেবিল রাখা আছে। সেখানে আমার খাবার দিয়ে যায়। আমি কিছুক্ষণ পরে সে খাবার ভেতরে নিয়ে আসি।

প্রশ্ন: খাবার শেষে প্লেট ফেরত পাঠান কীভাবে? আপনার জামাকাপড় কিভাবে পরিষ্কার করেন?
– আমাকে ওয়ান টাইম প্লেটে খাবার দেয়। প্লেট ফেরত পাঠাতে হয় না। আর আমার জামা কাপড় আমি নিজেই পরিষ্কার করি।

প্রশ্ন: খাবারের উচ্ছিষ্ট কী করেন?
– আমার রুমের অন্য পাশে একটা ড্রাম আছে। সেখানে পলিথিনের মধ্যে ফেলি।

প্রশ্ন: ঘরে গন্ধ ছড়ায় না?
– করোনা পজেটিভ হওয়ার পর থেকে আমি গন্ধ বুঝতে পারি না।

প্রশ্ন: করোনা থেকে কীভাবে রিকভার করলেন?
– যারা করোনা টেস্ট করাতে এসেছিল তারাই ১৫ দিনের একটা কোর্স দিয়েছিল। মেডিসিন ছিলো জিংক, জিমেক্স, প্যানটোনিক্স আর সিভিট। জ্বর থাকলে নাপা এক্সটেন্ড খেতে বলেছিল, কিন্তু জ্বর ছিলো না বলে খাই নি। রুমে ওয়াটার হিটার জগ আছে। গলা ব্যাথার জন্য, গরম পানি দিয়ে খেয়েছি, নাকে গরম পানির ভাপ নিয়েছি, গরম পানি দিয়ে গার্গেল করেছি।

প্রশ্ন: রিলিজ পাচ্ছেন কবে?
– কিছুদিনের মধ্যে আমাকে আবার টেস্ট করবে। রেজাল্ট নেগেটিভ অথবা পজেটিভ আসলে কিছুদিন পর আবার টেস্ট করবে। রেজাল্ট পর পর দুই বার নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত রিলিজ পাবো না।

প্রশ্ন: রিলিজ পাওয়ার পর প্রথমে কী করতে চান?
– রাস্তায় হাটতে চাই। বন্ধুদের জড়িয়ে ধরে বলতে চাই, আমি সুস্থ্য হয়ে গেছি।

(করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ফাহিম তরঙ্গ।)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে