যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ।

0
315

OURBANGLANEWS DESK।

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের অলংকারপুর টেংরাপাড়া গ্রামে।

অভিযোগ, তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি তাঁকে ঘরে আটকে রেখেছিলেন ধারালো বঁটি দিয়ে চুল কেটে দেওয়ার পর।

০৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ উদ্ধার করেছে ওই গৃহবধূকে এবং আটক করেছে তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে।

চুমকি বেগম (২৫) ভুক্তভোগী গৃহবধূ। অলংকারপুর গ্রামের ওয়াজেদ প্রামাণিকের ছেলে রিয়াজ প্রামাণিকের স্ত্রী তিনি। দুই বছরের একটি মেয়ে আছে ওই দম্পতির।

অভিযোগ করে নির্যাতনের শিকার চুমকি বেগম বলেন, ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে তাঁর রিয়াজের সঙ্গে বিয়ে হয়।

রিয়াজ বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকেন। চুমকির বাবা মেয়ের সুখের কথা ভেবে বিয়ের কিছুদিন পর ৫০ হাজার টাকা দেন।

কিন্তু টাকার জন্য রিয়াজ মাঝেমধ্যে চাপ দিতে থাকেন। শারীরিক নির্যাতন চলত টাকা না দিলে। কয়েকবার তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছিল মারধর করে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে চুমকির পরিবার অভিযোগ করেছিল। পরে স্বামীর পরিবারের লোকজন মুচলেকা দিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যান চুমকিকে।

কিন্তু গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবারও টাকা চাওয়া হয় চুমকির কাছে। ওই দিন রাতে রিয়াজ তাঁকে মারধর করেন টাকা দিতে না চাইলে।

শাশুড়ি মরিয়ম বেগম এ সময় হাত ধরে রাখেন চুমকির এবং বঁটি দিয়ে চুল কেটে দেন স্বামী রিয়াজ প্রামাণিক।

পরে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল একটি ঘরে। চুমকি সুযোগ বুঝে বাবাকে খবর দেন এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে। তাঁকে উদ্ধার করা হয় খবর পেয়ে।

বলেন চুমকি বেগম, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী প্রতিনিয়ত টাকা চাইতেন। মারধর করতেন তাঁকে। তিনি কাউকে কিছু বলেননি সব ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার আশায়।

কিন্তু তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছেন এবার মাথার চুল কেটে দেওয়ায়। এ কারণে ফোন করে বাবাকে খুলে বলেছেন সবকিছু।

এ কে এম আজমল হুদা বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ পাঠানো হয় নির্যাতনের ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে।

ওই গৃহবধূকে পুলিশ উদ্ধার করেছে এবং আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়িকে। এ ঘটনায় প্রস্তুতি চলছে মামলার।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে