যেভাবে আত্মহত্যা কমছে জাপানে।

0
262

OURBANGLANEWS DESK।

শীতের রাত। মার্চ মাস। তায়েকো ওয়াতানাবের ঘুম ভেঙে গেল। তাঁর নজর কাড়ল রক্তের লম্বা একটা দাগ।

একটা রক্তমাখা চাপাতি ছেলে ইউকির বিছানায়। ছেলে ঘরে নেই। পুলিশে ফোন করলেন বাধ্য হয়ে।

তাঁর শোবার ঘর থেকে আত্মহত্যাবিষয়ক চিরকুট উদ্ধার করল পুলিশ এসে।

রয়টার্সকে ইউকির ফুল ও ফুজি আপেলের বাগানে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল ছবি হাতে ওয়াতানাবে বলেন,

‘আমার ছেলের লাশ ওরা (পুলিশ) মন্দিরের পাশে একটি খালে পড়ে থাকতে দেখে।

তারপর লাশটা কম্বলে মুড়ে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের পর ছেলের লাশ বাড়ি ফিরে আসে। আর আমি একেবারে একলা হয়ে পড়ি।’

২৯ বছর বয়সে মারা যান ইউকি। এখনো জাপানের অন্যতম আত্মহত্যাপ্রবণ এলাকা আকিতা টোকিও থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে।

আত্মহত্যার জন্য আকিতা প্রায় দুই দশক ধরে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

ওয়াতানাবে জানান তবে হালে এই পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে বলে। তাঁর মতে, এখন ইউকি যদি পরিস্থিতিতে পড়ত একই রকম, তাহলে সে হয়তো আত্মহত্যা করত না।

ওয়াতানাবে নিজেও আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন ছেলের মৃত্যুর পর।

কিন্তু এখন ‘সুইসাইড সারভাইভরস গ্রুপ’ পরিচালনা করেন নিজেই।

জাতীয় ভাবে পরিচালিত একটি প্রকল্পের অংশ এই গ্রুপটি, গত ১৫ বছরে যা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পেরেছে আত্মহত্যার হার, যা বেশ কম সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকেও।

আকিতায় আত্মহত্যার হার এখন সবচেয়ে কম গত ৪০ বছরের ভেতর।

জাপান সরকার ২০০৭ সালে হাতে নেয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি।

এই কর্মসূচি আরও নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়ে ২০১৬ সালে কাজ শুরু করে বড় আকারে স্থানীয় পর্যায়ে।

কর্মচারীরা কী পরিমাণ কাজের চাপে রয়েছেন কারখানাগুলোতে, সরকার বাধ্যতামূলক বলেও ঘোষণা করেছে প্রতিবছর তা পরীক্ষা করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে