যেভাবে আটক হলো নুসরাত হত্যা মামলার আসামি নুর উদ্দিন।

0
177

OURBANGLANEWS DESK।

নুর উদ্দিন দুই নম্বর আসামি, নুসরাত জাহান রাফি ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী হত্যা মামলার।

তিনি গত ৬ এপ্রিল থেকে পালিয়ে যান নিজ এলাকা থেকে রাফি শরীর আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর থেকেই।

নুর এলাকা ছেড়ে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় প্রায় আড়াই শ কিলোমিটার দূরে চলে আসেন।

নুর আশ্রয় নেয় শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় পূর্বপরিচিত আকবর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে।

শুক্রবার আকবরের বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুরকে আটক করা হয়।

যারা নুর উদ্দিনকে আটক করেছেন নিজেদের তাঁরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্য দাবি করলেও আটকের কথা স্বীকার করেননি ময়মনসিংহ ও ঢাকায় সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তাই।

তবে নাম না প্রকাশের শর্তে পিবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা নুর উদ্দিনকে আটক করে ফেনীতে নিয়ে গেছেন।

আমতলীর স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ননা দেন কিভাবে নুর উদ্দিন আটক হন।

নুর উদ্দিন গ্রেপ্তারের সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন আকবরের বাড়ির একটি কক্ষে। তাঁকে ডেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বাইরে থাকা একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয় আটক করে।

তবে আকবরকে তাঁর বাড়িতে পাওয়া যায়নি নুর উদ্দিনকে আটকের সময়। প্রতিবেশীরা জানান আকবর আর এ ঘটনার পর বাড়িতে ফেরেননি।

শফিকুল ইসলাম আকবরের বাড়ির প্রতিবেশী জানান, অপরিচিত নম্বর থেকে আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফোন আসে তাঁর মোবাইলে।

আমতলীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শফিকুলকে ফোন করে আসতে বলা হয়। তিনি কিছু সময় পর বেশ কয়েকজন লোক দেখতে পান সেখানে গিয়ে।

বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা শফিকুলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকেন। ওই লোকেরা একপর্যায়ে জানতে চান আকবর নামে এক ব্যক্তির তথ্য।

শফিকুল ইসলাম তখন তাঁদের জানান, ভালুকায় আকবর শ্রমিকের কাজ করেন। এর পাশাপাশি করেন পলিথিনের ব্যবসা।

ফেনী জেলার সোনাগাজীতে তাঁর গ্রামের বাড়ি। আকবর সেখান থেকে চার বছর আগে একতলা টিন সেটের একটি বাড়ি করেন ভালুকার আমতলী এলাকায় জমি কিনে।

চারটি কক্ষ রয়েছে সেই বাড়িতে। আকবর কয়েকটি কক্ষ এলাকার কারখানার শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে এসব তথ্য জেনে আকবরের বাড়িতে যান শফিকুলকে সঙ্গে নিয়ে ওই অপরিচিত লোকেরা।

ভেতর থেকে একজন বাড়ির দরজা ধাক্কা দেওয়ার পর দরজা খুলে দেন। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, নুর উদ্দিন একটি কক্ষের খাটে ঘুমাচ্ছেন।

তাঁকে ওই অবস্থায় আটক করা হয়। নিজেদের পিবিআইয়ের সদস্য হিসেবে তখনই অপরিচিত লোকেরা পরিচয় দেন।

পরে আমতলী এলাকা ছেড়ে দুটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস নুর উদ্দিনকে নিয়ে চলে যায়।

এক নারী জানান আকবরের বাড়িতে, সোনাগাজীতে পাশাপাশি আকবর ও নুর উদ্দিনের বাড়ি।

বৃহস্পতিবার রাতে সেই সূত্র ধরে কোন একসময় নুর উদ্দিন আসেন আকবরের বাড়িতে। নুর উদ্দিন সেখানে এসে জানান কিছুদিন থাকবেন বলে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে