মোংলা বন্দরে ফণীর প্রভাবে সব কার্যক্রম বন্ধ।

0
251

OURBANGLANEWS DESK।

৩ মে শুক্রবারও মোংলা বন্দরের সব কার্যক্রম ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত হানার আশঙ্কায় বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করার পর বৃহস্পতিবার সকালে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বন্দরে অবস্থানরত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ ও জেটিতে পণ্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজসহ সব ধরনের কার্যক্রম।

একই সঙ্গে জারি রয়েছে বন্দরের নিজস্ব সর্তক বার্তা অ্যালার্ট-থ্রি।

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে বন্দরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর।

পৃথকভাবে কন্ট্রোল রুম খুলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন।

দুরুল হুদা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার জানান, আবহাওয়া অফিস থেকে ৪ থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর বন্ধ করে দেওয়া হয় বন্দরে অবস্থানরত কিংকার (সিমেন্টের কাঁচামাল),

মেশিনারিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ। একই সঙ্গে বন্দরের অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয় বন্দরের নিজস্ব অ্যালার্ট -থ্রি জারির পর।

নিরাপদে নোঙর করতে বলা হয়েছে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই লাইটারেজকেও।

এ ছাড়া বন্দর চ্যানেলে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের বড় জাহাজগুলো।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত হানার আশঙ্কায় ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায়।

প্রস্তুত রাখা হয়েছে উপজেলার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র পাশাপাশি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দুর্গত মানুষ যেন সেগুলোতে সঠিকভাবে আশ্রয় নিতে পারে।

এ ছাড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে উপজেলার মসজিদগুলোর মাইকে। বেগম হাবিবুন নাহার পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বলেন,

‘আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে উপজেলার সুন্দরবন, চিলা, জয়মনির ঘোল, বুড়িরডাঙ্গাসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ।

ব্যবস্থা করা হচ্ছে তাদের থাকার ও খাবারের এবং আশ্রয় কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের বাড়ী ঘরে কোন রকম ক্ষয়ক্ষতি না হয় সেব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

মোঃ আলমগীর হোসেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) উপজেলা সহকারী পরিচালক জানান,

‘তারা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে ঘূণিঝড় ফণীর প্রভাবে এলাকার মানুষকে সচেতন ও জানমাল রক্ষায়।’

মাহমুদুল হাসান পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ছুটি বাতিল করায় তারা বুধবার থেকে অবস্থান করছে বনের প্রতিটি অফিসে।

তিনি জানান, বন প্রহরীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেসব দর্শনার্থী এখনো বিভিন্ন নৌযানে করে বনের ভেতরে অবস্থান করছেন, তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে দিতে।