মৃত্যু-সূচকে ১২০ দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

0
100

মৃত্যু-সূচকে ১২০ দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

যেকোন মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষ্য থাকে সংক্রমণ প্রতিহত করা। তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় সংক্রমণ রোধ করা না গেলে বা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়— মৃত্যু ঠেকিয়ে রাখা। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখন মৃত্যু ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। সে ক্ষেত্রে কম মৃত্যুর সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪৯ টি দেশের ১২০ টি দেশকে পেছনে ফেলে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্বখ্যাত জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ইউরোপ আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোর বেশির ভাগই এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে তুলনামূলক খারাপ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ২৮ টি দেশ।

দেশে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৬৪ টি জেলার মধ্যে ৫৪ টি জেলার সংক্রমণ রয়েছে ১০০ জনের নিচে। বাকি ১০ জেলায় করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১০০ জনের ওপরে। আর ৫০ জনের নিচে সংক্রমিত জেলার সংখ্যা ৩৯ টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে মৃত ২৩৯ জনের মধ্যে ঢাকার ১৩৪ ও নারায়ণগঞ্জের ৩৮ জন ছিল। এরপর ছিল চট্টগ্রামে ১৩ জন। বাকি জেলাগুলোতে মৃত্যু এক থেকে পাঁচজনের মধ্যে। দেশের এই পরিস্থিতিকে অনেকাংশে সুবিধাজনক পর্যায়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ ক্ষেত্রে সবাই আসন্ন ঈদুল ফিতরকে বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে দেখতে চান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ঈদের সময়টা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত দেড় মাস যতটুকু সংযত রাখা গেছে তা ঈদ পর্যন্ত ধরে রাখা গেলে বাংলাদেশের জন্য করোনা জয় অনেকটা সহজ হবে। তবে ঈদে সংযমী না থেকে কেনাকাটা ও এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াত বেড়ে গেলে উল্টো ফল আসতে পারে। তখন মৃত্যুহারও বেড়ে যেতে পারে’।

আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বিশ্লেষণে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গতকালের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ৬, যুক্তরাজ্যে ১৯ দশমিক ৬, ইতালিতে ১৩ দশমিক ৯, স্পেনে ১১ দশমিক ৮, ফ্রান্সে ১৪ দশমিক ৯, ব্রাজিলে ৬ দশমিক ৮, বেলজিয়ামে ১৬ দশমিক ৩, সুইডেনে ১২ দশমিক ৪, হাঙ্গেরিতে ১২ দশমিক ৬, জার্মানিতে ৪ দশমিক ৪, কানাডায় ৭, মেক্সিকোতে ১০, নেদারল্যান্ডসে ১২ দশমিক ৮ ও জাপানে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ জন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৪৯ টি দেশের মধ্যে ২০ হাজারের নিচে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশসহ ১২০ টি দেশে। এ ক্ষেত্রেও মাত্র ২৫ টি দেশ বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার বাংলাদেশের চেয়ে কম।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যসচিব এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আসন্ন ঈদের সময়টাই আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই ঈদের পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। মানুষ যদি এই ১৫-২০ দিন ঘর থেকে বের না হওয়া, জরুরি নয় এমন কেনাকাটা না করা এবং এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাতায়াত না করে তবে আমরা এর খুব ভালো সুফল পাব। অন্যথায় স্বস্তির এই সূচক উল্টে যেতে পারে’।

আরেক রোগতত্ত্ববিদ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে না পারলেও কম মৃত্যুর সূচকে অনেক বড় বড় দেশের চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি। এটি অবশ্যই একটি ভালো দিক। মৃত্যু কম রাখা গেলে, সংক্রমিত হলেও একধরনের সুরক্ষা মেলে। অবশ্য সংক্রমণ যত বেশি হবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বা চিকিৎসার সুবিধা ততটা কমতে থাকবে। আর তখন মৃত্যুহার বেড়ে যায়। উন্নত বিশ্বে যেমনটা হচ্ছে। সেদিকে নজর রেখেই আমাদের আগামী ঈদের সময় যেকোনো মূল্যেই হোক মানুষের যাতায়াত, কেনাকাটা, ঘোরাফেরা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে কিন্তু ঈদের আনন্দ পরবর্তীতে আমাদের জন্য বড় শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করতে পারে’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে