মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

0
109

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ

পদ্মা নদীর মাঝি, কুবের গণেশ মালা, প্রাগৈতিহাসিকের মতো অসাধারণ চরিত্রগুলো নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ গল্প লিখে পাঠকহৃদয় কেড়েছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক তিনি।

এ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিকের জন্মদিন আজ। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে বেশী পরিচিত। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতার নাম হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। কিন্তু পিতার চাকরি সূত্রে তার পরিবার সাঁওতাল পরগনার দুমকায় চলে আসেন। তিনি ১৯০৮ সালের ১৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনায় (বর্তমান ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা শহরে) জন্মগ্রহণ করেন।

তার রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ। এ সাহিত্যিকের কালজয়ী উপন্যাসের নাম পদ্মা নদীর মাঝি। নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনবসতির সাথে মানিক এক আত্মিক বন্ধন অনুভব করতেন। মাঝি-জেলেদের সাথে গল্পে মজে থাকতেন, খাওয়া-দাওয়া করতেন। সেই আত্মীয়তা থেকে সৃষ্টি করেছিলেন তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রচনা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’।

জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে তিনি ৪২ টি উপন্যাস ও দুই শতাধিক ছোটগল্প রচনা করেছেন। তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, ইত্যাদি উপন্যাস, অতসী মামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোট বকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়। তার রচনা ইংরেজি ছাড়াও বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

ক্ষুধা, দারিদ্রে পিষ্ট হয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ক্লান্ত-শ্রান্ত এ সাহিত্যযোদ্ধা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘দেখো, দুটি ডাল-ভাতের সংস্থান না রেখে বাংলাদেশে কেউ যেন সাহিত্য করতে না যায়।’ বেঁচে থাকতে দিনের পর দিন ক্ষুধার তাড়নায় ছটফট করেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পর রাশি রাশি ফুলের ভারে তার মরদেহ নুয়ে পড়ে।

১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর, মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে এ কথাসাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে