মাদ্রাসাশিক্ষক ‘চোর সন্দেহে’ পেটালেন ছাত্রকে।

0
218

OURBANGLANEWS DESK।

পটুয়াখালীতে মাদ্রাসা শিক্ষক আহসানইল্লাহ চোর সন্দেহে সুমন চৌকিদার (১৩) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র এর মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকে,

তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে, গুরুতর আহত করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত শিক্ষার্থীকে ২১ জুন শুক্রবার, বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার হেতালিয়া বাঁধঘাট আকন বাড়ি হাফেজি মাদ্রাসায়।

আহত শিক্ষার্থীর মামা ইলিয়াস জানান, শিক্ষক আহসানউল্লাহর মাদ্রাসার পাশে একটি দোকান আছে।

সেই দোকান থেকে সম্প্রতি দুই হাজার টাকা চুরি হয়। ওই শিক্ষক এ ঘটনায় সুমনকে সন্দেহ করে,

সে বৃহস্পতিবার সকালে সুমন কে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে তার মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ও হাত-পা বেঁধে তাকে বেত মারতে শুরু করে।

একপর্যায়ে বেত ভেঙে গেলে তিনি সুমনকে রড দিয়ে পেটান।

বেদম প্রহারের ফলে সুমন অজ্ঞান হয়ে গেলে, তাকে ফেলে আহসানউল্লাহ মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে যান।

তার চলে যাওয়ার পর, সহপাঠীরা সুমনকে ডেকে সাড়া না পেয়ে সুমনের বাড়িতে খবর দেয়।

মাদ্রাসায় এসে অভিভাবকরা মুখে স্কচটেপ পেঁচানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসাশিক্ষক আহসানউল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিভাবকরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা রহিম চৌকিদার জানান, ছেলেকে দেড় বছর আগে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল।

সুমনের মা বাদী হয়ে এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সুমনকে বরিশালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সেলিম মাতুব্বর এ বিষয়ে জানান,

‘সুমনের শরীরে বিভিন্ন জায়গায়, মারাত্মক জখম রয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।’

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান,

‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার করে শিক্ষক আহসানউল্লাহকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’