মাদারীপুরে গুদামের চাল পাচারকালে আটক ২।

0
167

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় টেকেরহাট খাদ্য গুদামে চাল পাচারকালে পুলিশ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ সময় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন গুদামরক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনকে এবং সিলগালা করে দেন ১০ নং গুদাম।

গুদাম রক্ষক এর অপসারণ এবং বিচারের দাবীতে এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘মাদারীপুরের টেকেরহাট খাদ্য গুদামের সরকারি চাল দীর্ঘদিন ধরে টেকেরহাট গুদামের গুদামরক্ষক গাজী সালাউদ্দিনসহ গুদামের কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাল পাচার করে আসছিল।

বৃহষ্পতিবার রাতে ৯ নং গুদামে এবং শুক্রবার দুুপুরে ১০ নং গুদামের বাইরে তালা লাগিয়ে ভেতরে রক্ষিত প্রতি চালের বস্তা থেকে ৩-৪ কেজি চাল বের করছিল অস্থায়ীভাবে কর্মরত ২ কর্মচারী’।

স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিনকে খবর দেয়।

পুলিশ নিয়ে এসে তিনি গুদামের ভিতর থেকে আটক করে সেলিম বেপারী ও মরেজ খান নামে দুই কর্মচারীকে।

আটক কর্মচারীরা জিজ্ঞাসাবাদে চাল পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরা গুদামরক্ষক গাজী সালাহ উদ্দিনের নির্দেশে বস্তা থেকে চাল বের করছিলাম।

আমরা চাকুরী করি তাই তার হুকুম মানতে হয়। তবে চাল পাচারে জড়িত থাকার বিষয়টি সালাহ উদ্দিন অস্বীকার করেছেন।

একই গুদামের ঠিকাদার উজির শেখ এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি টের পেয়ে ইউএনওকে খবর দিলে পুলিশ নিয়ে এসে তিনি হাতেনাতে দুইজনকে আটক করেছেন।

একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে এই অপকর্ম করে আসছিল।

মিলারদের সভাপতি দেলোয়ার মাতুব্বর বলেন , ৩০ কেজির বস্তায় ৫০০ গ্রাম এবং ৫০ কেজির বস্তায় ১ কেজি করে চাল আমাদের কাছ থেকে বেশী নিয়ে থাকে।

প্রতি বস্তায় এখন চাল কম এটা মানা যায় না।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, খাদ্য গুদামে সরকারি প্রতিটি বস্তা থেকে ওরা আলাদা করে ৩-৪ কেজি চাল বের করে বিক্রি করে আসছিল।

আমরা চাল পাচারের খবরে ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা পাই।

এ ঘটনায় গুদাম সীলগালা করা হয়। আগামীকাল জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।