মহাসড়ক অবরোধের ডাক অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য।

0
181

OURBANGLANEWS DESK।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটা-বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে।

শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সন্ধ্যায় ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সিন্ডিকেটের সভা সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ার পর রাতে বৈঠক করে।

গতকাল রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সভায় সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছি।’

আর লোকমান হোসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, সিন্ডিকেটের সভায় উপাচার্যের পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা আসবে।

কিন্তু সেটা না পাওয়ায় রাত ১১টার দিকে আমরা বৈঠক করেছি। বৈঠকে আগামীকাল (আজ) বেলা ১১টা থেকে কাফনের কাপড় পরে কুয়াকাটা-বরিশাল-ভোলা মহাসড়ক অবরোধ

ও আমরণ অনশন পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।’

উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গত ২৬ মার্চ এক অনুষ্ঠানে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে মন্তব্য করলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন ২৭ মার্চ থেকে।

২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয়।

উপাচার্য এস এম ইমামুল হক ২৯ মার্চ তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন তাঁর পদত্যাগের দাবিতে।

জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা, মঙ্গলবার বেলা একটায় শেষ হয় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার তাঁদের বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা।

শিক্ষার্থীরা গতকাল আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন এর মধ্যে উপাচার্যের পক্ষ থেকে পদত্যাগের বা ছুটিতে যাওয়ার লিখিত ঘোষণা না আসায়।

তাঁরা দুই ঘণ্টার জন্য আগের দিনও মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন।

বলেছে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র, শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে বেলা একটায় অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন বেলা দুইটায়।

উপাচার্য ইমামুল হক পদত্যাগের দাবির বিষয়ে গতকাল দিনের বেলায় বলেন, ‘এটা বাড়াবাড়ি। এটা এখন আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়।

কতিপয় শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অশুভ চক্রের আর্থিক ও নানা ধরনের প্ররোচনায় এই আন্দোলন করছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে