ভিক্ষু সেতু বানাচ্ছেন দানের টাকায়।

0
161

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

মাত্র ৩০০ মিটার দূরত্ব পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের মধ্যে। বিস্তীর্ণ ধানখেত আর ডোবা পৃথক করেছে ইউনিয়ন দুটিকে।

যা পানিতে ডুবে থাকে বছরের বেশির ভাগ সময়। ফলে প্রায় চার কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয় এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে।

দুই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন একটি সেতুর অভাবে।

অবশেষে অবসান হতে যাচ্ছে তাঁদের কষ্টের। পঞ্ঞ চক্ক মহাথের নামের এক বৌদ্ধ ভিক্ষু এগিয়ে এসেছেন। তিনি সেতু বানাচ্ছেন বিল আর ডোবার ওপর।

প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রশস্তের এই সেতু নির্মিত হচ্ছে তাঁর প্রচেষ্টায় ৫০ লাখ টাকায়। এর মধ্যে শেষ ৫০৮ ফুটের কাজ। ১৮০ ফুটের কাজ চলছে এখন।

চট্টগ্রামের রাউজানে এ নজির সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তি উদ্যোগে সেতু নির্মাণের। উপজেলার পাহাড়তলী ও কদলপুর ইউনিয়নকে যুক্ত করবে সেতুটি।

খৈয়াখালী গ্রাম দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা। একটি অনাথালয়, একটি বৌদ্ধবিহার, একটি উচ্চবিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে পাহাড়তলী ইউনিয়নের এই গ্রামে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল ধানখেত খৈয়াখালী গ্রামের ধম্মা বিজয়া রাম বিহারের পেছনে। দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা চলাচল করেন খেতের আইল ধরে।

তবে তা মাত্র দু–এক মাসের জন্য শুষ্ক মৌসুমে। এখন এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে আইলের ওপরই।

সেতু নির্মাণে নিয়মিত কাজ করছেন ১২০ শ্রমিকের পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় ১০০ তরুণ।

এলাকার লোকজন বছরের পর বছর ধরে ধরনা দিয়ে আসছিলেন একটি সেতু নির্মাণের জন্য। কিন্তু সাড়া দেননি কেউই সরকারি কোনো দপ্তর বা জনপ্রতিনিধি।

অবশেষে এগিয়ে আসেন চক্ক মহাথের স্থানীয় মানুষের কষ্ট লাঘবে। খৈয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় ও খৈয়াখালী ধম্মা বিজয়া রাম বিহার পরিচালনা কমিটিরও সভাপতি তিনি।

চক্ক মহাথের, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সেতুটি নির্মাণের গল্প বলতে গিয়ে বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় গত ১১ জানুয়ারি।

এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে কাজ। অর্থসহায়তা দিয়েছেন স্থানীয় বিত্তশালী লোকজন, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায়নি সেতু নির্মাণে।

‘খৈয়াখালী-কদলপুর সংযোগ সেতু’ নাম দেওয়া হয়েছে সেতুর।

উৎপল বড়ুয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সেতুটির নকশা করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে।

তিনি বলেন, যাতায়াতে দুর্ভোগ দূর হবে সেতুটি নির্মিত হলে, ঝামেলা কমবে বাড়তি পথ পাড়ি দেওয়ার। শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টা সময় লাগে কদলপুর থেকে

পাহাড়তলী ইউনিয়নের খৈয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় ও খৈয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে। মোটে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগবে সেতু চালু হলে।

সেকান্দর বাদশা ও কলেজপড়ুয়া নিশান চৌধুরী স্বেচ্ছায় শ্রম দেওয়ার বিষয়ে বলেন, তাঁরা আনন্দিত ভালো কাজে শ্রম দিতে পেরে।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় স্থানীয় বৌদ্ধবিহারটিতে। ১৯ দিনব্যাপী ব্যূহ মেলা, কঠিন চীবর দান, আধি ধর্ম পাঠ ও বাংলা বর্ষবরণ আছে এর মধ্যে।

দুই ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দা এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আসেন পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা অন্যান্য এলাকা থেকেও। তাই উপায় ছিল না সেতু নির্মাণ না করে।

লক্ষ্মী বড়ুয়া খৈয়াখালী বৌদ্ধবিহারে পূজা দিতে এসেছিলেন কদলপুর ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া গ্রাম থেকে। তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালে বিল পানিতে ডুবে থাকে।

তাই পূজা দিতে বিহারে আসতে পারেন না। এখন সেতু হলে খুব সহজেই আসতে পারবেন। এ জন্য ভান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

রোকন উদ্দিন পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, উপজেলায় প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের সেতু নির্মাণ।

আবুল কালাম রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জীবনমানে পরিবর্তন আসবে এই কাজের ফলে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে