ভারতে ভিন্ন বর্ণে বিয়ে করায় বাবা জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করলো মেয়েকে।

0
220

OURBANGLANEWS DESK।

মাত্র ১৯ বছর বয়স ছিল রুক্মিণী রণসিংহ। পরিবারের অমতে মাস ছয়েক আগে মঙ্গেশ রণসিংহেকে বিয়ে করেছিল সে।

কিন্তু জাত আলাদা হওয়ায়, ওই বিয়ে মেনে নেয়নি রুক্মিণীর পরিবার।

গত ৩০শে এপ্রিল তার বাবা-মা রুক্মিণীকে বাড়িতে ডাকেন। রুক্মিণী সেই রাতে স্বামীকে ফোন করে জানায় তার পরিবারের লোকেরা তাকে মারধর করছে।

স্বামীকে সেসময় অনুরোধ করে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে।

মঙ্গেশ পরের দিন সকালে রুক্মিণীদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে শুরু হয় তুমুল অশান্তি, তার মধ্যেই রুক্মিণীর কাকা আর মামা মঙ্গেশ আর রুক্মিণী কে মারধর করে।

তারপর রুক্মিণী ও মঙ্গেশ কে একটি ঘরে বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে আহমেদনগর জেলায় এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, “হাসপাতালে ভর্তি করার সময়ে রুক্মিণীর শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মঙ্গেশের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ জ্বলে গিয়েছিল। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৫ই মে রুক্মিণী মারা যায়।”

হাসপাতালের চিকিৎসক অজয় তাবড়ে এ প্রসঙ্গে বলেন, “মঙ্গেশ এখনও সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে।”,

রুক্মিণীর দেবর মহেশ রণসিংহে বলেন, “রুক্মিণী বা মঙ্গেশের সঙ্গে রাস্তায় ওদের বাড়ির কারও দেখা হলেই হুমকি দেওয়া হত।

ফেব্রুয়ারি মাসে এই হুমকির ব্যাপারটা জানিয়ে রুক্মিণী আর মঙ্গেশ থানায় অভিযোগও জানিয়েছিল।”

মঙ্গেশ বলছিলেন, “ঘর থেকে তীব্র চিৎকার শুনে পড়শিরা ওই বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলে রুক্মিণী আর মঙ্গেশকে উদ্ধার করেন।

তারাই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পুনে শহরে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান।”

রুক্মিণীর চাচা সুরেন্দ্র ভারতী আর মামা ঘনশ্যামকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

আহমেদনগরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট মনীষ কলভানিয়া বলেন, “রুক্মিণীর বাবা রামা রামফল ভারতী পালিয়ে গেছে।

তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনাস্থল থেকে এক বোতল পেট্রোল উদ্ধার করা গেছে।”

তবে মঙ্গেশের ভাই মহেশ বলছিলেন, “পুলিশ যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে এই পরিণতি হত না দাদা আর বৌদির।

দুটো থানায় আলাদা করে অভিযোগ জানানো হয়েছিল যে ওদের পরিবার হুমকি দিচ্ছে।”