বেতন বন্ধ শিক্ষকদের, টিউশন ফি নিতে চাপ না প্রয়োগে অনুরোধ; বিপাকে প্রতিষ্ঠান গুলো

0
170

বেতন বন্ধ শিক্ষকদের, টিউশন ফি না নিতে অনুরোধ; বিপাকে প্রতিষ্ঠান গুলো

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তেমন সমস্যায় না পড়লেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অর্থ সংকটে পড়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ফান্ডে গচ্ছিত টাকা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও, ফান্ডে টাকা না থাকায় অশিকাংশ প্রতিষ্ঠান মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনসহ নন-এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপর টিউশন ফি আদায়ে চাপ বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসএমএসে মানবিক আবেদনের মাধ্যমে বেতন চাচ্ছে।

অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ টিউশন ফি আদায়ে উভয় সংকটে পড়েছে। কারণ তারা বেতন চাইলে তা অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে। অন্যদিকে বেশির ভাগ অভিভাবক এ মুহূর্তে বেতন দিতে রাজি নন। আর প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন আদায় না করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না। আর এ মুহূর্তে শিক্ষক-করচারীদের বেতন-বোনাস না দিলে তাও অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে।

সম্প্রতি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে এক আদেশে জানানো হয় টিউশন ফি আদায়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের চাপ প্রয়োগ না করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এছাড়া আদেশে অবস্থা স্বাভাবিক হলে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায় করতে অনুরোধ জানানো হয়।

গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোটাই টিউশন ফি-নির্ভর। আমি অভিভাবকদের অনুরোধ করব, এখন তাঁদের খরচও একটু কম। তাই তাঁরা যেন টিউশন ফির ব্যাপারটা বিবেচনা করেন। তবে যাঁরা সমস্যায় রয়েছেন তাঁদের কথা ভিন্ন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকেও বলব, প্রয়োজনে কিছুটা ফি কম নেওয়া বা কিস্তিতে ফি নেওয়ার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। যার মধ্য দিয়ে অভিভাবকরাও কিছুটা স্বস্তি পেলেন, স্কুল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারল, বড় আকারের কোনো সমস্যায় পড়ল না। কিন্তু এখন সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বলার সুযোগ নেই যে তোমরা ফি নিবে না’।

এদিকে টিউশন ফি আদায়সহ বিভিন্ন কাজে কিছু কিন্ডারগার্টেনের অফিস রুম খোলা রাখা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় কিছু বাচ্চাকে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ হাতে দেখা গেছে।

তবে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ মার্চ থেকে আমাদের সব স্কুল বন্ধ রয়েছে। কোনোভাবেই স্কুল খোলার প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি আমরা গত মার্চ ও এপ্রিল মাসের টিউশন ফি এখনো নিতে পারিনি। ফলে শিক্ষকদের বেতনও দেওয়া সম্ভব হয়নি’।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে রোজা ও ঈদের ছুটিসহ তা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে