বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গাড়ির ধাক্কায় আহত দুই, একজন হাসপাতালে ভর্তি।

0
265

মাহিন, OURBANGLANEWS DESK।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক চালাচ্ছিলেন গাড়ি। দুর্ঘটনা বশত শিক্ষক মোফাজ্জলের গাড়ির ধাক্কায় আহত হয় দুই শিক্ষার্থী।

ধাক্কা লাগায় দূরে ছিটকে পড়েন এক ছাত্রী, অন্যজনের পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায় চাকা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর ওপর তুলে দিলেন গাড়ি।

গত ২০ তারিখ, বুধবার আনুমানিক বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঘট দুর্ঘটনায় আহত দুই জন ছাত্রীর মধ্যে একজনকে ভর্তি করা হয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীদের সসহপাঠীদের মাধ্যমে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন কর্মসূচি শেষ করে চলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

ক্যাম্পাস থেকে টিএসসিতে যাচ্ছিল ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইমা আক্তার ও স্নাতক প্রথম বর্ষের আয়শা মোমেনা।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেনের গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-১৭৯৫৬৩) প্রধান ফটকের সামনে ওই দুই শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। গাড়ি চালাচ্ছিলেন শিক্ষক নিজেই।

ইমা আক্তার গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে দূরে পড়েন। আয়েশা মোমেনা গাড়ির ধাক্কায় সামনে পড়লে গাড়ির চাকা তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত হন মোমেনা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গাড়ি থামিয়ে অনুরোধ করেন আহত আয়শাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। এনিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।

একপর্যায়ে গাড়িটি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আহত আয়েশাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সসে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

আহত ইমা আক্তার বলেন,‘আমরা দুজন ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় একটি প্রাইভেট কার আমাদের ধাক্কা দেয়।

আমি দূরে ছিটকে পড়ি। আর আয়েশার ওপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়। পরে আহত আয়েশাকে ওই শিক্ষকের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি রাজি হননি।’

নূর মোহাম্মদ প্রক্টর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থী আয়েশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আয়েশার চিকিৎসা ভার শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন।’

আইন বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রেক কাজ না করার জন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আমি আহত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। আর আমি তাকে গাড়িতে নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী ভুল–বোঝাবুঝির কারণে আমার গাড়িতে হামলা চালায়।’

অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ‘রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

পরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার অবরোধ করেন সকাল ১০টার দিকে। শিক্ষার্থীরা প্রগতি সরণির ঘটনায় জড়িত বাসচালকের শাস্তি, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ডাবল ট্রিপ চালু, প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানান।

বেলা একটার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শেষ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাসে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে