বাবার সঙ্গে তানিয়ার ইফতার করা হলো না।

0
170

OURBANGLANEWS DESK

কিশোরগঞ্জে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এলাকার লোকজন শোকে স্তব্ধ এবং হতভম্ব।

কেউই ভাবতে পারছেন না বাড়ির কাছে নিজের এলাকায় মেয়েটি এমন ঘটনার শিকার হয়েছে।

স্বজনরা দিশেহারা শক্ত হাতে পরিবারের হাল ধরা মেয়েটি কে হারিয়ে। তাদের কান্না আর হাহাকার থামছে না কারও সান্ত্বনায়।

চার ভাই, দুই বোনের সংসারে তানিয়া ছিলেন সবার ছোট। ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি নার্সের চাকরি করতেন।

পিজি হাসপাতালের ব্রাদার তার পিঠাপিঠি বড় ভাই কফিল উদ্দিন সুমন। তারা দুজনে পরিবারটি টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে মাত্র তিন মাস আগে তাদের মা মারা যান।

বাবা গিয়াসউদ্দিন কে সঙ্গ দিতে প্রায়ই গ্রামে যেতেন তানিয়া। বাবাকে সান্ত্বনা দিতেন, স্বপ্ন দেখাতেন।

রোজা উপলক্ষে তিনি বাড়ি আসছিলেন বাবা ও ভাইদের সঙ্গে ইফতার করতে।

কিন্তু সোমবার রাতের ওই নৃশংস ঘটনা পরিবারটির সব স্বপ্ন, সব আনন্দ চুরমার করে দিয়েছে।

তানিয়ার দুই ভাই বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

তানিয়ার ভাই কফিল উদ্দিন সুমন বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে আমার বোন স্বর্ণলতা বাসে করে বাড়িতে আসছিল।

কটিয়াদি আসার পর বাসে কোনও যাত্রী ছিল না।

পরে বাসটি পিরিজপুরের পথে নীরব জায়গায় থামায় চালক। আমার বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করে কুলাঙ্গাররা।

আমার বোনের হাত-পা ভাঙা ও গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল এবং মুখের মধ্যে টিস্যু পেপার গুঁজে দেওয়া হয়েছিল। আমি এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিনের বিলাপে কাঁদছে গ্রামবাসী।

তারা জানান, পরিবারের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল মেয়েটি।

কখনো নিজের কথা চিন্তা করতো না। তার স্বপ্নজুড়ে ছিল কেবল বাবা আর ভাইবোন।

মেয়েটি লেখাপড়া করে ইবনে সিনায় সেবিকার চাকরি নিয়েছিল।

স্বপ্ন ছিল সরকারি সেবিকা হওয়া। তানিয়া গত শনিবার বাবাকে ফোন করে বাড়ি আসার খবর জানিয়ে বলেছিল, সে পাঁচ দিনের ছুটি পেয়েছে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে রোজা পালন করতে বাড়ি আসছে। সবাই খুশি হয়ে বসেছিলেন মেয়ের পথ চেয়ে। কিন্তু তানিয়া বাড়ি ফিরল লাশ হয়ে।

তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমার পরিবারের জন্য মেয়েটা যা করার দরকার চাকরি করে সবই করতো।

কিন্তু এই শয়তানের দলেরা আমার মেয়েটার জীবন শেষ করে দিলো।

যা ক্ষতি করার তো সবই করলো। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

তানিয়ার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতেই মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

বাজিতপুর থানায় তানিয়ার বাবা গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এ মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় স্বর্ণলতা বাসের চালক গাজীপুরের কাপাসিয়ার নূরুজ্জামান ওরফে নূর মিয়া (৩৮) ও হেলপার একই এলাকার লালন মিয়াকে (৩২) সোমবার (৬ মে) রাতেই পুলিশ আটক করেছে।

পাশাপাশি ওই বাসের পিরিজপুর ও কটিয়াদীর দুই লাইনম্যানসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই পাঁচজনকে আট দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন কিশোরগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের আদালত’।

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী ‘স্বর্ণলতা’ পরিবহনের বাসে সোমবার রাতে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বাজিতপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বিলপাড় গজারিয়া এলাকায়।

কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া।

তিনি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সেবিকা পদে কর্মরত ছিলেন।

৬ মে সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে কটিয়াদী ও বাজিতপুরের পিরিজপুর হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন।