বর্ষবরণ ২৮ কোটি বাঙালির এক সুরে।

0
199

OURBANGLANEWS DESK।

পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা ও চ্যানেল আই আয়োজন করেছে হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণের।

বিশ্বের প্রায় ২৮ কোটি বাঙালি চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে এর সঙ্গে যুক্ত হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত

আয়োজন করা হয়েছে চৈত্রসংক্রান্তি আর হাজার কণ্ঠে লোকগান গেয়ে বরণ করে নেওয়া হবে বাংলা নতুন বছর ১৪২৬ সালকে পরদিন সকাল ছয়টায়।

আয়োজকেরা ০৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য জানান রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।

সুরের ধারার চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ,

চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও ইউনিলিভারের বিপণন বিভাগের পরিচালক নাফিস আনোয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চ্যানেল আইয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক (অনুষ্ঠান বিভাগ) শহিদুল আলম সাচ্চু স্বাগত বক্তব্য দেন।

‘লোকসুরে বাংলা গান’ এ বছর অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু। বাংলা গানে বিভিন্ন সময়ে লোকসুর ব্যবহার করেছেন বাংলার সব গীতিকবিই।

বাংলার মাটির গন্ধ উঠে এসেছে বাংলার লোকায়ত কবি, শিল্পী, বাউল, ফকিরেরা যেসব গান করেছেন, সেগুলোর মধ্যে।

বলেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ‘প্রদীপ জ্বালানোর আগে যেমন সলতে পাকাতে হয়, তেমনি একটি উৎসব করার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হয়।

পয়লা বৈশাখে আমাদের বিশাল যে উৎসব, সেটাকে সার্থক করার জন্য বছরের শেষটা অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তিকেও আমরা উদ্‌যাপন করি।

তখন থেকেই আমাদের বর্ষবরণের উৎসবের আবহ তৈরি হয়ে যায়। রাত ১২টায় যখন চৈত্রসংক্রান্তি শেষ হয়,

পরদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকাল ছয়টায় আমরা যখন উৎসবে প্রবেশ করি, তখন সেটা হঠাৎ কোনো উৎসব থাকে না। সেটা হয়ে যায় আগের অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা।’

আরও বলেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ‘চৈত্রসংক্রান্তিতে শিশু থেকে তরুণ, সবাই আয়োজনের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত হয়।

এভাবেই তাদের মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতা তৈরি হয়। অন্যদিকে পয়লা বৈশাখে সারা দেশের শিল্পীদের সম্পৃক্ত করি।

কারণ, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “উৎসব তখনই সার্থক হয়, যখন মানুষের আত্মার সঙ্গে আত্মার মিলন হয়, প্রাণের সঙ্গে প্রাণের মিলন হয়।”

আমরা আত্মার সঙ্গে আত্মার মিলনের উদ্দেশ্যে সারা দেশের শিল্পীদের এই মঞ্চে একত্র করি এবং চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে এটা সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এই অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হন।

এভাবেই তাদের সঙ্গে আমাদের প্রাণের একটা অদৃশ্য যোগ স্থাপিত হয় সুরের মাধ্যমে।’

জানান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, এই অনুষ্ঠান এ বছর পদার্পণ করছে অষ্টম বছরে। দেড় হাজার শিল্পীকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে দশম বছর পূর্তিতে।

তাঁরা সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে চান মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সবাই যাতে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকে সারা বছর।

দেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ ও মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধের বিকাশ হবে এর মাধ্যমে। প্রত্যেক মানুষকে এ জন্য হতে হবে সংস্কৃতিসচেতন, উপলব্ধি ও অনুভব করতে হবে সংস্কৃতিকে, ভালোবাসতে হবে সংস্কৃতিকে।

এবার এই আয়োজনে যুক্ত করা হবে অর্ধেক শিল্পী ঢাকার এবং বাকি অর্ধেক শিল্পী ঢাকার বাইরের।

বলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ‘চৈতসংক্রান্তির সন্ধ্যায় আমরা চলমান বছরকে বেদনা নয়, আনন্দের সঙ্গে বিদায় জানাই।

চলতি বছর যে অর্জনগুলো, সেগুলোকে আমরা উদ্‌যাপন করি। ব্যর্থতাগুলো বা যে মানুষগুলো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের জন্য বেদনাটা থাকবে।

তবে তাঁদের কর্মের যে উত্তরাধিকার আমরা নিয়েছি, সেটার জন্য আমরা গৌরবও বোধ করব। নতুন বছরে পদার্পণে আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশকে ঘিরে স্বপ্ন দেখব। সেই স্বপ্নে যেন সবাই শামিল হয়, সে জন্য এই আয়োজন।’

নাসির উদ্দীন ইউসুফ এ উৎসবকে বৈশ্বিক বিবেচনা করে বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ ও একুশে ফেব্রুয়ারি, এ দুটি দিন কোনো দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।

বিশ্বে যে ২৮ কোটি বাঙালি আছেন, এই দুটি দিন সবাই উদ্‌যাপন করে। যদিও আমাদের স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস আছে।

কিন্তু এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ঘটনা। কিন্তু অন্য দুটি হচ্ছে দেশের গণ্ডি অতিক্রম করে যাচ্ছে, জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় সারা পৃথিবীর বাঙালি একত্র হচ্ছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ বলেই বাঙালির কাছে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হয়েছে।’

কলকাতার রূপসী বাংলা ও বাংলাদেশের একাত্তর টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের পাশাপাশি সরাসরি সম্প্রচার করবে অনুষ্ঠানটি।

ফরিদুর রেজা সাগর জানান সব ধরনের সহযোগিতা করবেন দেশে আগ্রহী অন্য টিভি চ্যানেলগুলোকে এই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করতে।

বাংলা ভাষায় পারদর্শী ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সস্ত্রীক যোগ দেবেন হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণের এ আয়োজনে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে