পৃথিবীর গভীরতম হৃদ।

0
488

OURBANGLANEWS DESK।

পৃথিবীর মোট আয়তনের ৭০ ভাগ জল এবং মাত্র ৩০ ভাগ স্থল।

পৃথিবীর জলভাগ সর্বত্র বিস্তৃত। এই বিস্তৃত জলভাগের সবচেয়ে প্রাচীনতম ও সবচাইতে গভীরতম হৃদের নাম “বৈকাল হৃদ”।

রাশিয়া সর্ব-উত্তরের অঞ্চল সাইবেরিয়ার দক্ষিণভাগে অবস্থিত বৈকাল সুপেয় পানির হ্রদ।

প্রাচীন এই হ্রদটি প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর পুরনো।

হৃদটির উত্তর-পশ্চিম অংশ ইর্কুৎস্ক ওবলাস্ত ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশ বুরিয়াত প্রজাতন্ত্রে পড়েছে।

বিশ্বের গভীরতম হ্রদটি আয়তনে প্রায় ৩১,৫০০ বর্গকিলোমিটার এবং এর সর্বাধিক গভীরতা ১,৬৩৭ মিটার।

গভীরতার পাশাপাশি হৃদটি আয়তনের দিক থেকেও সবচেয়ে বড়।

তিনশোরও বেশি নদীর পানি এসে এই হ্রদে মিশে এবং হ্রদটির পানি মাত্র একটি নিম্ন আঙ্গারা নদীর মাধ্যমে বাইরে নিষ্কাশিত হয়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন হ্রদটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং হৃদটির চারদিক পাহাড় ঘেরা।

ভূগর্ভে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর আগে তীব্র আলোড়নের ফলে,

ভূপৃষ্ঠে একপ্রকার ফাটলের সৃষ্টি হয়, আর সেই ফাটলের ফলে বৈকাল হ্রদের সৃষ্টি হয়।

আশ্চর্যময় হ্রদটি মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ।

এছাড়া এর আশেপাশের অরণ্য অঞ্চলও প্রাকৃতিক জীববৈচিত্রের এক বিপুল সম্ভার।

বৈকাল হ্রদ এলাকায় ১৭০০-এর বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ এবং প্রাণী রয়েছে,

যার দুই-তৃতীয়াংশ পৃথিবীতে অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

বৈকালের পানি অত্যন্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ, হ্রদটির পাঁচ হাজার ফুট গভীরেও জলজ প্রাণী বাস করে।

ইউনেস্কো ১৯৯৬ সালে হ্রদটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘোষণা করে।

বৈকাল হ্রদ “সাইবেরিয়ার নীল নয়ন” অথবা “সাইবেরিয়ার মুক্তা” নামেও পরিচিত।

সঞ্চিত পানির আয়তন অনুযায়ী বৈকাল বিশ্বের বৃহত্তম সুপেয় পানির হ্রদ।

এখানে সঞ্চিত মিষ্টি পানির পরিমাণ, উত্তর আমেরিকার ‘গ্রেট লেক্‌স’ এর সবগুলি হ্রদে সঞ্চিত মিষ্টি পানির থেকেও বেশি।

হৃদটি বিস্তার ৫ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার অথবা ২ লাখ ১৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে।

হ্রদটি লম্বায় ৬৩৬ কিলোমিটার অথবা ৩৯৫ মাইল ও চওড়ায় ৭৯ কিলোমিটার অথবা ৪৯ মাইল।

গড় গভীরতা ৭৪৪.৪ মিটার অথবা ২ হাজার ৪৪২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৪৪২ মিটার অথবা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট।

সৈকত অথবা বেলাভূমির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার অথবা ১ হাজার ৩০০ মাইল।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বৈকাল হ্রদ ১ হাজার ১৮৬.৫ মিটার অথবা ৩ হাজার ৮৯৩ ফুট নিচে।

এই হ্রদে ছোট-বড় ২৭টি দ্বীপ রয়েছে। সবচেয়ে বড় দ্বীপ ওলখন, লম্বায় ৭২ কিলোমিটার।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্বচ্ছ পানির হ্রদ বৈকাল। প্রাচীন চীনা পাণ্ডুলিপিতে বিশালতার কারণে এই হ্রদটিকে ‘উত্তর সাগর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপের মানুষ বহুকাল ধরে সাগরসদৃশ এই হ্রদের ব্যাপারে জানতো না।

রাশিয়া এই অঞ্চলে রাজ্য সম্প্রসারিত করলে, ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে কুরবাত ইভনিভ নামের একজন রুশ অনুসন্ধানী গবেষক, এই এলাকায় পৌঁছেন।

তার মাধ্যমেই প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় এবং সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৈকাল হ্রদ মানুষের সামনে আসে।

বৈকালে ওমূল, গোলেমিংকা, স্যামন মাছ ও নানাজাতের শামুক,

শ্যাওলাসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী পাওয়া যায়।

এর পূর্ব পাড়ে বুরিয়াত নামক আদিবাসী সম্প্রদায় বাস করে। বৈকাল শীতপ্রধান এলাকা।

শীতকালে বৈকালের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে আসে এবং গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীতকালে হ্রদের পানি পুরু বরফ হয়ে যায় এবং তখন এর ওপর দিয়ে দিব্যি হাঁটা যায়।

প্রকৃতির বিস্ময় বৈকাল হ্রদে সারাবছরই পৃথিবীর অনুসন্ধানী গবেষক এবং সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকেরা ভিড় করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে