নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন ন্যান্‌সি।

0
279

OURBANGLANEWS DESK।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি বেকসুর খালাস পেয়েছেন ছোট ভাই শাহরিয়ার আমানের সাবেক স্ত্রী সামিউন্নাহার শানুর দায়ের করা মামলা থেকে।

তাঁকে ০২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে অব্যাহতি দিয়েছেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

নেত্রকোনা থেকে জীবন কুমার সরকার আসামি পক্ষের আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি।

সামিউন্নাহার শানু গত বছর সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন ন্যান্‌সি আর তাঁর ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানির বিরুদ্ধে।

ন্যান্‌সির স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদকেও একই মামলায় করা হয় আসামি। তাঁরা এই মামলা থেকে সাত মাস পর অব্যাহতি পেয়েছেন।

জীবন কুমার সরকার বলেন, ‘আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

আমি মনে করছি, আমার মক্কেলদের মান–সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এবং আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশায় তাঁদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

সামিউন্নাহার শানু গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ন্যান্‌সি আর তাঁর ছোট ভাই শাহরিয়ার আমান সানির বিরুদ্ধে।

এ মামলা তিনি দায়ের করেন নেত্রকোনা মডেল থানায়। মামলায় আসামি করা হয় ন্যান্‌সি ও তাঁর স্বামী নাজিমুজ্জামান জায়েদকেও।

জানা গেছে সামিউন্নাহার শানুর দায়ের করা মামলা থেকে, সানি চাপ দেন শানুকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও আসবাব এনে দিতে বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে।

শানু এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান সানি। এই কাজে সম্প্রতি সাহায্য করেন তাঁর বড় বোন ন্যান্‌সি আর তাঁর স্বামী জায়েদ।

মামলায় উল্লেখ করা হয় সানিকে উসকানি দেওয়া ছাড়াও তাঁরা বিভিন্ন সময়ে মানসিক নির্যাতন চালাতেন শানুর উপর।

ন্যান্‌সি ওই সময় বলেছিলেন, ‘আমাকে কেন মামলায় জড়ানো হলো? শুধু আমাকে না, সঙ্গে আমার স্বামীকেও জড়ানো হয়েছে।

এর মানে কী! আমার ভাই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে, তা তো আমার জানার কথা না। আমি থাকি ময়মনসিংহ আর ভাই নেত্রকোনায়।

যতটুকু বুঝতে পারছি, যেহেতু আমাকে দেশের সবাই চেনেন, জানেন, আমার একটি পরিচিতি আছে, তাই আমাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

দেশের সবার সামনে ছোট করার জন্য, আমার ইমেজের ক্ষতি করার জন্য তারা আমাকে এই মামলায় আসামি করেছে। শানু যা অভিযোগ করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই তা প্রমাণিত হবে, আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। আইন আমাদের নারীদের অনেক সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু কেউ কেউ তার অপব্যবহার করছে। আমি মনে করছি, শানু সেই সুযোগটি নিয়েছে।’

ন্যান্‌সি নেত্রকোনার আদালত থেকে মঙ্গলবার সকালে বেরিয়ে বলেন, ‘আমি কিন্তু আগেই বলেছিলাম, অকারণে আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

আমি নিশ্চিত ছিলাম, সত্যের জয় হবেই। তা প্রমাণিত হয়েছে। আমি একজন শিল্পী, এই ধরনের মিথ্যা অপবাদের কারণে আমাকে মানুষের নানা কথা শুনতে হয়েছে। পরিচিতজন, আত্মীয়স্বজন ও

শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে প্রতিনিয়ত এই মামলার বিষয়ে কথা বলতে হয়েছে। আজ আমার মাথার ওপর থেকে সেই বোঝা সরে গেল।

আজ আমি এবং আমার স্বামী পুরোপুরি মুক্ত। আদালতের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে