ধুমপানের চেয়ে ডায়েট বেশি মৃত্যু ঘটায়।

0
447

OURBANGLANEWS DESK।


প্রতি পাঁচ জনে একজনের জীবনের আয়ু কমে যাচ্ছে ডায়েট বা খাদ্যাভাসের কারণেই।

এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর এক কোটিরও বেশি মানুষ শুধু খাবারের কারণে মারা যাচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে ল্যানচেটে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে বলা হয়, দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা ধূমপানের চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায়

এবং এই ডায়েট বা খাবার দায়ী বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য।

যেমন ধরুন লবণ-এটি জীবনের আয়ু কমিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে-তা রুটি, সস বা মাংস- যার সাথেই দেওয়া হোক না কেন।

গবেষকরা বলছেন, শুধু মাত্র স্থূলতা নয় এই গবেষণায় দেখা হয়েছে নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাস (পুওর কোয়ালিটি) কিভাবে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে বা ক্যান্সারের কারণ হচ্ছে।

কোন খাবার হতে পারে চিন্তার কারণ?
দ্যা গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিস স্টাডি, একটি পর্যবেক্ষণ যেখানে দেখা হয়েছে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় কোণায় কিভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে।

যেসব উপাদানের কথা বিপজ্জনক খাদ্য হিসেবে বলা হচ্ছে-

১. ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ, অতিরিক্ত লবণ।
২. ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ, কম দানাদার শস্য খাওয়া।

৩. ২০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ, ফলমূল কম খাওয়া।

এছাড়া মৃত্যুর বড় কারণগুলোর অন্যতম বাদাম, বীজ, শাক-সবজি, সামুদ্রিক থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ এবং আঁশ জাতীয় খাবারের পরিমাণ কম হওয়া।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার মুরের মতে, “ডায়েটকেই আমরা স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান পরিচালক হিসেবে পেয়েছি। এটা সত্যিই অনেক গভীর।”

মানুষকে কীভাবে হত্যা করছে?
এক কোটি দশ লাখ ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে এক কোটির।

উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় অতিরিক্ত লবণ যা বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।

লবণের সরাসরি প্রভাব পড়ে হার্টে ও রক্ত বহনকারী ধমনীর ওপর যা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধের ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশ্ব সঠিক ডায়েট থেকে কত দূরে?
আমরা কি সঠিক পরিমাণে সঠিক খাবার খাচ্ছি- এখন এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় প্রশ্ন।

যেমন, দিনে বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খাওয়ার কথা ২৫ গ্রাম সেখানে মানুষ গড়ে মাত্র ৩ গ্রাম খাচ্ছে। আবার ৪৪৩ গ্রাম দুধ খাওয়া উচিত অথচ মানুষ খাচ্ছে ৭১ গ্রাম।

একইভাবে ১২৬ গ্রাম দানাদার শস্য জাতীয় খাবারের জায়গায় ২৯ গ্রাম খাচ্ছে।

অথচ লাল মাংস ২২ গ্রাম খাওয়া উচিত হলেও ২৭ গ্রাম খাচ্ছে সেটি, ৩.২ গ্রামের ওপর লবণ খাওয়া উচিত নয় কিন্তু খাচ্ছে ৬ গ্রাম আর ২.১ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংসের স্থানে ৪ গ্রাম।

এই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্য তালিকা থেকে বেশি বাদ যাচ্ছে- বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নিতা ফরোউহি বলছেন, ‘ধারণা করা হয় যে এসব খাবারের ছোট একটি প্যাকেটে একজনকে মোটা বানাতে পারে অথচ এগুলো সব ভালো ফ্যাটে ভর্তি।‘

তিনি বলেন, আর বেশিরভাগ লোকই এটাকে প্রধান খাবার ভাবতে পারেনা।

প্রতিবছর অনেক সংবাদ হয় রেড মিট বা লাল মাংস আর প্রক্রিয়াজাত করা মাংসের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে।

প্রফেসর মুরে বলছেন, কিন্তু সেটা কম ঝুঁকিপূর্ণ শস্য, দানাদার ও আঁশজাতীয় খাবার ও ফলমূল কম খাওয়ার চেয়ে।

গবেষকরা তাই মনে করছেন, যারা স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি করেন তাদের স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বেশি বলা উচিত চর্বি কিংবা সুগারের কথা কম বলে।

গবেষকরা বলছেন বিশ্বজুড়ে গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে খারাপ ডায়েট মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

অবস্থান ভাল কোন দেশগুলোর?
ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ফ্রান্স, স্পেন এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশে তুলনামূলক অনেক কম। আর দক্ষিণ পূর্ব, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার চিত্র উল্টো।

যেখানে ইসরায়েলে প্রতি এক লাখে মৃত্যুর হার মাত্র ৮৯, সেখানে উজবেকিস্তানে ৪৯২ জন।

তবে প্রফেসর মুরে বলছেন, আগে জাপানে ব্যাপক লবণ খাওয়ার প্রবণতা থাকলেও নাটকীয়ভাবে সেটি এখন কমে এসেছে।

তবে প্রচুর পরিমাণে লবণ খায় চীনারা এবং তারা খাদ্য তালিকায় লবণ দিয়ে সস বেশি পছন্দ করে। আর এ বিষয়ে এখনো ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও বেলজিয়ামের পেছনে আছে যুক্তরাজ্য।

তবে এজন্য কম দায়ী নয় ফলমূল বা দানাদার ও শস্যজাতীয় খাবারের স্বল্পতা। দেশটিতে প্রতি লাখে ডায়েট সম্পর্কিত মৃত্যু ১২৭ জন।

কোন পরামর্শ?
প্রফেসর মুরে বলছেন, “কোয়ালিটি ডায়েট হলো আসল কথা, আপনার ওজন কত সেটা এখানে বিবেচ্য নয়।”

তিনি জোর দিয়েছেন সবজি, আঁশজাতীয় খাবার ও ফলমূল খাওয়া বাড়ানোর ওপর। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় বিষয় টাকা।

প্রফেসর ফরউহি বলছেন, মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারে লোকজন জানলে আর রিসোর্স থাকলে।

তবে তারা দুজনই একমত যে মানুষের উচিত ভালো খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া ফ্যাট, সুগার বা সল্ট এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা।