দেশে করোনাভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচন

0
236

দেশে করোনাভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচন

দেশের করোনাভাইরাসের জিন–নকশা উন্মোচনে কাজ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।

ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সমীর সাহা গতকাল (মঙ্গলবার) এ তথ্য দিয়েছেন।

সরকারের করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা করোনাভাইরাসের জিন–নকশা উম্মোচনের (জিনোম সিকোয়েন্সিং) কাজটি দেশের জন্য বড় ধরনের মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন। এজন্য তিনি চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সব বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জিনোম হলো জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। বংশগতির সব বৈশিষ্ট্যই এক বা একাধিক জিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের তথ্য জানার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো জিন–নকশা উন্মোচন। এর মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

এ গবেষণাকাজে সহায়তা করার জন্য সমীর সাহা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গেটস ফাউন্ডেশন ও চ্যান–জাকারবার্গ বায়ো–হাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এই স্ট্রেইন (ধরন) রাশিয়া ও সৌদি আরবে দেখা গেছে। আরও ৫০ থেকে ১০০টির সিকোয়েন্সিং করলে বোঝা যাবে দেশে কোন স্ট্রেইন সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং তা কত মারাত্মক’।

গত বছরের ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নতুন এ করোনাভাইরাস মানব শরীরকে আক্রান্ত করে। এরপর ধাপে ধাপে ভাইরাসটি সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এই ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির গতিপ্রকৃতি জানার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার ল্যাবরেটরিতে এর জিন বিশ্লেষণ হয়েছে। ওষুধ ও টিকাবিজ্ঞানীরাও এই বিশ্লেষণের তথ্য তাঁদের গবেষণায় ব্যবহার করছেন বা করবেন’।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের এখন আর অন্ধকারে থাকতে হবে না। আমরা বুঝতে পারব, এই ভাইরাসটির উৎপত্তি কোথায়’।

তিনি বলেন, ‘নানা কারণে ভাইরাসের জিনে তথা প্রকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। চীনের ও ইতালির ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা এক না–ও হতে পারে। বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণক্ষমতা কেমন হবে, তার বেশ কিছু ধারণা পাওয়া যাবে এই বিশ্লেষণ থেকে’।

অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহার নেতৃত্বে একদল গবেষক এ বিশ্লেষণের কাজটি করেছেন। সেঁজুতি অধ্যাপক সমীর সাহার মেয়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে