দেশের প্রথম লোহার খনি হিলিতে।

0
143

OURBANGLANEWS DESK।

দিনাজপুরের হিলিতে, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের (জিএসবি) কর্মকর্তারা দেশের প্রথম লোহার খনির সন্ধান পেয়েছেন।

কূপ খননের পর পাওয়া নমুনা, প্রায় দুই মাস পরীক্ষার নিরীক্ষার পর তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এখানে সন্ধান মিলেছে লোহার আকরিকের (যার বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনেটাইট) খনির।

দুয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় জ্বালানি ওঁ খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় এর সচিব অথবা মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ব্রিফ করবেন।

১৮ জুন মঙ্গলবার, দুপুরে হিলির ইশবপুড়ে খনির ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দল নিশ্চিত করেছেন খনির সন্ধানের বিষয়টি।

তারা জানান, আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে জরিপে। দেশের মধ্যে এটিই, প্রথম লৌহ খনিজ পদার্থের খনি।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের (জিএসবি) উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বলেন,

‘বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ২০১৩ সালে মুর্শিদপুরে প্রথম খনন কার্যক্রম শুরু করে।

সেই খনন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ও ফল স্বরূপ ছয় বছর পর হিলির ইশবপুরে গত ১৯ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় খনন কাযক্রম শুরু করা হয়েছিল।

আমরা যে আশায় এখানে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছিলাম সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৩৮০-১৫০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত ড্রিলিং কার্যক্রম চলার সময়েই আমরা এখানে খনির আশার আলো দেখতে পেয়েছিলাম।

এখন পর্যন্ত এখানে আমরা যে পরিমাণ খনন কাজ চালিয়েছি এবং যে পরিমাণ নমুনা ভূগর্ভ থেকে সংগ্রহ করেছি,

সেগুলো আমাদের প্রফেশনাল জ্ঞান ও পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোটামুটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি এখানে লৌহের আকরিকের অর্থাৎ ম্যাগনেটাইট এর উপস্থিতি রয়েছে।

এর উপস্থিতি অনেক বড় আকারে। এর থিকনেস প্রায় ৩শ ফুটের অধিক।

এরকম থিকনেস যদি আরও ৫/৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকে তাহলে এখানে বড় ধরনের রিজার্ভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমরা আশা করছি ওই ধরনের রিজার্ভ যদি আশেপাশের এলাকাসহ এখানে থাকে তাহলে সেটা বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম আয়রনের খনি

এবং বিশ্বের মধ্যে একটা স্থান করে নেওয়ায় বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৪’শ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল।

আর এ কারণেই এখানে আগ্নেয় শিলার অবস্থান থাকায় লৌহ জাতীয় খনিজ পদার্থের খনি রয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি এখানে উন্নত মানের লৌহ খনি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখান থেকে যেসব নমুনা বিভিন্ন ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম সেগুলোর রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা গেছে,

বিশ্বের যে কয়েকটি দেশে লোহার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে সেসব খনির লোহার মান ৫০ শতাংশের নিচে।

আর বাংলাদেশের লোহার মান ৬৫ শতাংশের ওপরে বলে রিপোর্টে জানা গেছে। জয়পুরহাট বিসিএসআইআর পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এখানে কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামেরও উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও ১১৫০ ফুট গভীরতায় চুনাপাথরের সন্ধানও মিলেছে।’

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপ-পরিচালক মাসুদ রানা বলেন,

‘হিলির ইশবপুরে কূপ খনন করে ধাতব খনিজ সম্পদের মজুদ ও বিস্তৃতি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের একটি টিম গত ১৯ এপ্রিল থেকে ড্রিলিং কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এখানে আমরা ১৩২৪ ফুট গভীরতায় লোহার আকরিকের সন্ধান পেয়েছি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এই লোহার আকরিকের মজুদ অনেক বেশি।

কিন্তু এই মজুদটা বের করার জন্য এখানে আমাদের আরও অনেক ড্রিলিং করতে হবে। তাহলে আমরা বলতে পারবো যে এখানে কী পরিমাণ লোহার আকরিকের মজুদ রয়েছে।

এই লোহার আকরিক যদি আমাদের কাছে ভিজিবল হয় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও জানান, খনন করে এখন পর্যন্ত সেখান থেকে পাওয়া গেছে হেমাটাইট, ম্যাগনেটিক মিনারেল, ম্যাগনেটাইট এবং লিমোনাইট উপাদান।

একারণে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন আরও ভালো কিছু পাওয়ার।

হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, ‘লৌহার খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় আমরা খুব খুশি।

এটি দ্রুত উত্তোলন করলে একদিকে যেমন এলাকার লোকজনের সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।

দেশের উন্নয়ন হবে। তাই এই খনির কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল থেকে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামে,

খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তিন শিফটে কাজ করছেন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের ৩০ সদস্যের একটি দল।

এর আগে, ২০১৩ সালে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে হাকিমপুর উপজেলার মুর্শিদপুর গ্রামে জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়।

সেখানে ১৫শ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় পাওয়া যায় হেমাটাইট, ম্যাগনেটিক মিনারেল, ম্যাগনেটাইট এবং লিমোনাইট।

আর চুনা পাথর পাওয়া যায় ১২’শ ফুট গভীরতায়। যা অপেক্ষাকৃত অনেক কম গভীর, অন্যান্য জায়গার গভীরতার চেয়ে।

এর ওপর ভিত্তি করেই অনুসন্ধানকারী দল চালাচ্ছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিপ কার্যক্রম।