দীর্ঘ দিন ডায়েটিংয়ে লেগে থাকার উপায় জেনে নিন।

0
289

OURBANGLANEWS DESK।

ডায়েটিংয়ে লেগে থাকা কঠিন কাজ৷ প্রবল উৎসাহে শুরু হলেও, মাঝে মাঝেই তা আবার উধাও হয়ে যায়৷

এক–আধবার হলে তাতে বিরাট ক্ষতি কিছু নেই৷ কারণ ডায়েটিংয়ের নিয়মই হল, সপ্তাহে এক–আধ দিন নিয়ম
করে অনিয়ম করা, তাতে বাকি দিনগুলিতে ডায়েটিংয়ে লেগে থাকা সহজ হয়৷

কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় মন৷ বিরিয়ানি বা আইসক্রিমের হাত ধরে এত লোভ জমা হয় যে তার হাত ধরে পর পর

আরও ক’দিন উল্টোপাল্টা খেয়ে ফেলার পর তখন আবার নতুন করে শুরু করতে হয় সব৷

কিন্তু একটু প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামলে, এই সব ছোটখাটো ভুল সামলে ডায়েটিংয়ে লেগে থাকা যায় অনায়াসেই৷

তা হলে কী করা উচিত? কী ভাবে নেবেন প্রস্তুতি? তো দেখে নেওয়া যাক, ডায়েটিংয়ের আগে কী কী করতে হবে আর কী কী করা যাবে না৷

ডায়েটিংয়ের প্রস্তুতি

কী কী খাবার দেখলে নিজেকে সামলাতে পারেন না তার একটি তালিকা করুন৷ তার মধ্যে যেগুলি হাই ক্যালোরি তাদের মার্ক করে নিন৷

কখন কোন খাবার খাওয়ার ইচ্ছে প্রবল হয় এবং কী ভাবে তা কাটানো যেতে পারে বা তার বদলে কিছুটা কম

ক্যালোরির কোন উপকারি খাবার খাওয়া যেতে পারে, তার পরিকল্পনা করে নিন৷ তা হলেই দেখবেন, যখনই হাই

ক্যালোরির খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হবে, সঙ্গে সঙ্গে তার বিক্ল্প খাবারের কথাও মাথায় চলে আসবে৷দুপুরে বা রাতে

মিষ্টির বদলে খান কম ক্যালোরির পুষ্টিকর টাটকা বা শুকনো ফল৷ বিকালে ভাজার বদলে রোস্টেড, গ্রিলড বা বেকড খাবার, কোল্ড ড্রিঙ্কের বদলে ফলের রস, ডাবের পানি৷

পুরো সপ্তাহ নিয়ম মেনে কাটানোর পর সপ্তাহ শেষে ঠিক করে নিন কি কি পছন্দের খাবার প্রাণভরে খাবেন৷

একঘেয়ে খাবার না খেয়ে পুষ্টি ও ক্যালোরির সঙ্গে স্বাদের কথাও মাথায় রাখুন৷ কম তেল–মশলায় কী
ভাবে স্বাদু খাবার বানানো যায় তা নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করুন৷

ডায়েটিং একা একা না করে বাড়িতে ও কাজের জায়গায় আরও কাউকে জোগাড় করা যায় কি না দেখুন, বিশেষ

করে যাঁদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন৷ হাবিজাবি খাওয়ার ইচ্ছে হলে তাঁরা সতর্ক করতে পারবেন৷ এতে উৎসাহ ও বাড়বে৷

এঁদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলে ভুলভাল খাওয়া কম হবে৷ বাড়ির জন্য খাবারদাবার কেনার সময়ও
এঁদের সঙ্গে রাখতে পারলে ভাল৷

ঘুমের সঙ্গে ফাঁকিবাজি করবেন না৷ কম ঘুমোলে শরীরে এমন কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যারা খিদে বাড়ায়৷ তা

ছাড়া কম ঘুমের ক্লান্তি দূর করতে আসক্তি বাড়ে মিষ্টি খাবারের প্রতি৷নিজেকে ব্যস্ত রাখুন৷ কারণ একঘেয়েমি
কাটাতেও কিন্তু মানুষ এটা সেটা খায়৷

নানান কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে নিলে সে বিপদ কেটে যায়৷
মোটিভেশন কমে যাচ্ছে বলে মনে হলে ডায়েটিংয়ের সুফল নিয়ে ভাবুন৷

মেনে চলার কৌশল

ভুলভাল খাওয়ার ইচ্ছা হলে ভাবুন, এক মুহূর্তের আনন্দের জন্য ভুল পদক্ষেপ নেবেন কি না৷ এত ব্যায়াম, এত কষ্ট, সব বিফলে চলে যাবে এই ভুলের জন্য৷

অসময়ে কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে এক গ্লাস পানি বা ফ্রেশ লাইম ওয়াটার খান খুব ধীরে ধীরে৷

অধিকাংশ ক্ষেত্রে লোভ যেমন আসে, তেমন চলে যায়৷চোখের খিদে পেলে একটু হেঁটে নিন৷ বা দু’–চারটে স্ট্রেচিং করুন৷

কারও সঙ্গে গল্পে মেতে যেতে পারেন৷
বাড়িতে রাখুন কেবল স্বাস্থ্যকর খাবার৷ডায়েটিংয়ের ধার ধারেন না এমন কারও সঙ্গে খেতে যাবেন না৷

সপ্তাহে এক–আধ দিন, দিনের একটা খাবার ইচ্ছামতো খান৷
নিয়মিত ব্যায়াম করুন৷ ডায়েটিং ও ব্যায়ামের যুগলবন্দিতে শরীর ঝরঝরে লাগতে শুরু করলে মোটিভেশন বাড়বে৷

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে