‘তোর বোনকে জবাই করেছি, ছেলে-মেয়ে নিয়ে গেলাম’।

0
357

OURBANGLANEWS DESK।

‘তোর বোনকে জবাই করে মেরেছি। বাড়িতে গিয়ে দ্যাাখ। আমি আমার ছেলে-মেয়ে নিয়ে চলে গেলাম’।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘাতক স্বামী নুরুল আমিন হাওলাদার (৩৫) স্ত্রী লাকি বেগমকে হত্যার পর পালিয়ে যাবার সময় তার ভাইকে এভাবেই মোবাইল ফোনে জানায়।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজারসংলগ্ন সাতঘর এলাকায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।

সকাল ৬টার দিকে পুলিশ লাকী বেগমের (২৮) গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ তার নিজ ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে পারিবারিক কলহে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া কালিবাড়ি গ্রামের খলিল হাওলাদারের মেয়ে লাকির প্রায় আট বছর আগে,

উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আবদুল হক হাওলাদারের ছেলে নুরুল আমিনের সাথে বিয়ে হয়।

শ্বশুর ভারতের কেরেলায় ভাঙ্গারির ব্যবসায় সহযোগিতার জন্য বিয়ের পর তার জামাইকে সেখানে নিয়ে যান।

নুরুল আমিন মাঝে-মধ্যে দেশে আসলেও স্ত্রী লাকির সঙ্গে বনিবনা হতো না। ঝগড়াঝাটি লগেই থাকত।

শ্বশুর খলিল হাওলাদার ঘটনার আগের দিন বুধবার জামাইকে বুঝিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেন।

বাড়ি এসে স্বামী-স্ত্রী একঘরে থাকলেও ভোররাতের দিকে নুরুল আমিন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে জিহাদ (৭) ও জেরিন (২) নামের দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মফিজুর রহমান শেখ জানান, হত্যার খবর ঘাতক নিজেই তার স্ত্রীর ভাইকে মোবাইল ফোনে জানায়।

নিহতের ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদার এ ঘটনায় বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।