ঢাকায় অবৈধ সিসা কারখানায় আগুন।

0
190


কাজী ইমন, OURBANGLANEWS DESK।

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি অবৈধ সিসা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কারখানা সংলগ্ন একটি টিনসেড স্কুলেও আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।
এ ঘটনা স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস করার সময় যুবলীগের এক নেতাকে বেদম মারপিট করেছে এলাকাবাসী। মারপিটের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার সময় দুই সাংবাদিককেও মারপিট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের খাতরা গ্রামে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার চন্দ্রাইল গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও জুলহাস উদ্দিন কয়েকবছর ধরে খাতরা গ্রামে আবাসিক এলাকায় ভাংগাড়ি দোকানের পাশাপাশি পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করে আসছিল। রবিবার গভীর রাতে ওই কারখানায় সিসা তৈরির সময় আকস্মিকভাবে আগুন লেগে যায়।

এতে আগুনের লেলিহান কারখানা সংলগ্ন ধামরাই ক্যাডেট স্কুলের একটি টিনসেড ঘর, চেয়ার-টেবিল, আলমারী, ফ্যান, সিসি ক্যামেরা ও ল্যাপটপসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু ততক্ষণে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায় কারখানাসহ স্কুলের যাবতীয় মালামাল।
স্কুলের ক্ষতিসাধন হওয়ার বিষয়ে কারখানা মালিকের স্বজনরা স্কুল পরিচালকদের সঙ্গে আপস-মিমাংসার বৈঠক বসে। বৈঠকে এলাকাবাসী স্কুলের ক্ষতিপূরণ বাবদ কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে।

এ সময় কারখানা মালিকের আত্মীয় যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম এত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে কামরুলকে মারপিট শুরু করে।
পরে দৌড়ে গিয়ে এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে কামরুলকে উদ্ধার করে। এদিকে মারপিটের দৃশ্য বাংলাদেশ টু ডে রিপোর্টার মিলন সিদ্দিকী ও আমার বার্তা পত্রিকার প্রতিনিধি মঞ্জুর এলাহী নামের দুই সাংবাদিক মোবাইল ফোনে ধারণ করতে থাকলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় কামরুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
ধামরাই ক্যাডেট স্কুলের সহকারী শিক্ষক দিপী আক্তার ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,কারখানায় পুরতান ব্যাটারি ও প্লাষ্টিক সামগ্রী পোড়ানোর সময় স্কুলের ভিতরে থাকা যায় না। শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়। কারখানাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেকবার বলা হলেও কোনো কর্ণপাত করেনি মালিকপক্ষ।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে