টয়লেটে দুই শিশুর লাশ: মানসিক সমস্যা থেকে দুই মেয়েকে হত্যা করেন বাবা।

0
145

OURBANGLANEWS DESK।

পুলিশ জানিয়েছে নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালের টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু দুটিকে তাদের বাবা শফিকুল ইসলাম শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

উদ্ধার হওয়া শিশু দুইটির নাম নুসরাত জাহান তাইন ও তানিশা তাইয়েবা।

পারিবারের লোকজন ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারনা করছে, বাবা শফিকুল ইসলাম মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায়,

এ ঘটনা ঘটিয়েছেন পারিবারিক টানাপোড়েন ও আর্থিক সমস্যায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে।

পুলিশ স্বজনদের বরাত দিয়ে জানায়, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পূর্ব চালাকচর এলাকার মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার লোহাজুরি এলাকার জজ মিয়ার মেয়ে আফিয়া বেগম কে বিয়ে করেন।

দুই মেয়ের জন্ম হয় তাদের সংসারে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ নেন।

সম্প্রতি তার পূর্বের মানসিক সমস্যাটি আবার দেখা দেয় পারিবারিক টানাপোড়েন ও আর্থিক অভাব অনটনে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

শুক্রবার দুপুরে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাবে বলে মনোহরদীর বাড়ি থেকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বের হন।

কিন্তু ডাক্তার না পেয়ে বাড়ি কথা ফেরার পথে মেয়েরা লঞ্চ দেখবে বলে বায়না ধরে।

স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানিয়ে মেয়েদের নিয়ে নরসিংদীর কাউরিয়াপাড়ায় লঞ্চ টার্মিনালে আসেন।

টার্মিনালে বড় মেয়ে লিচু খাওয়ার বায়না ধরে। কিন্তু পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় মেয়েদের কাছে লজ্জায় পড়ে যান শফিকুল।

এই হতাশা থেকে প্রথমে ছোট মেয়েকে ও পরে বড় মেয়েকে টয়লেটে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যান।

স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিজের অনুশোচনা থেকে শফিকুল পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন।

পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ও স্বজনরা এসব তথ্য দেয়।

শফিকুলের ছোট ভাই রাফিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের আগে তার মানসিক সমস্যা একবার চরম আকার ধারণ করেছিল।

তখন ২/৩ মাস তাকে আটকে রাখতে হয়েছিল। সম্প্রতি আবার তার সমস্যাটা দেখা দিয়েছে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন,

“পরিবারের লোকজন ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শফিকুল পারিবারিক টানাপোড়েন ও দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে হতাশা থেকে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যার ঘটনা বর্ণনা দেন। আবার পরক্ষণেই তিনি সব ভুলে যান।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”