ট্রেনে কাটা পড়া ভিক্ষুকের থলেতে ৮০ হাজার টাকা !!

0
392

OURBANGLANEWS DESK।

পেশাদার ভিক্ষুক খোকা মোল্লা (৬৫) স্ত্রী ও সন্তানদের কখনও তার ভিক্ষার থলে (ব্যাগ) দেখতে দিতেন না।

দিনভর বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে বাড়ি ফিরতেন রাতে।

ওই থলেতে রাখতেন ভিক্ষে করে পাওয়া টাকা-পয়সা।

রাতে ঘুমানোর সময় মাথার কাছে থাকতো থলেটি। তার মর্মান্তিক মৃত্যু ওই থলে রক্ষা করতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে।

থলেতে পাওয়া গেছে ভিক্ষার ৮০ হাজার ১৯০ টাকা।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর স্টেশনে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।

বগুড়া রেল স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কায়কোবাদ স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন গাবতলী উপজেলার নেপালতলি ইউনিয়নের ধনঞ্জয় গ্রামের মৃত মনি মোল্লার ছেলে খোকা মোল্লা।

তার ভিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তার স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে।

তিনি জানান, ভিক্ষুক খোকা সবসময় একটি চটের থলে রাখতেন।

কলেজ ট্রেনে সকালে বগুড়া শহরে এসে ভিক্ষা করতেন দিনভর।

এরপর বাড়ি ফিরতেন বিকালের ট্রেনে। ওই থলেতে রাখতেন সারাদিন ভিক্ষার টাকা-পয়সা।

তিনি বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে সুখানপুকুর স্টেশনে বগুড়াগামী কলেজ ট্রেনের দুই বগির জয়েন্টে উঠে বসেন।

ভিক্ষার থলেটি এ সময় তার কাঁধে ছিল। ট্রেন প্লাটফরম ছাড়ার সময় ঝাঁকুনিতে নিচে পড়ে যায় থলেটি।

খোকা মোল্লাও লাফ দেন থলে উদ্ধারে। এতে ট্রেনের চাকায় কেটে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

এসআই কায়কোবাদ জানান, ভিক্ষুক খোকার ওই থলেতে পাওয়া গেছে ভিক্ষার ৮০ হাজার ১৯০ টাকা।

তার স্ত্রী ও সন্তানদের এসব দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে তার লাশ গ্রামের গোরস্থানে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।

গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বাদল বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে থলেতে থাকা নোট ও মুদ্রা গুনতে।

সুখানপুকুর রেল স্টেশন মাস্টার আবদুল মতিন জানান, ওই টাকা তার পরিবারকে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপস্থিতিতে দেয়া হয়েছে।