ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না।

0
212

OURBANGLANEWS DESK।

ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে ইরানকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারটি।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে যাচ্ছে তেহরানের ওপর।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার ধারাবাহিকতায়।

১২ মে রবিবার আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর আরও বৃদ্ধি পায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা।

ইরান অথবা তাদের সমর্থিত কোনও গ্রুপ এই বিস্ফোরণের সাথে জড়িত বিশ্বাস, মার্কিন তদন্তকারীদের।

বিস্ফোরণে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তেহরান নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে আসছে ইরাকে থাকা মার্কিন সেনাদের প্রতি ইরানের হুমকি নিয়ে।

১৫ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর নির্দেশ দেয় বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ও ইরবিলের কনস্যুলেট থেকে কিছু সংখ্যক কর্মীকে দেশে ফেরার।

সব মিলে তৈরি হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দল ও অন্য সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইরান প্রসঙ্গে।

বলেছেন, তিনি চান যেন সশস্ত্র সংঘাতে রূপ না নেয় তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনা।

ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও স্পষ্ট করে বলেছেন, ওই অঞ্চলে তিনি মার্কিন স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যুদ্ধে জড়াতে চান না।’

১৬ মে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না আশা করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও সুইজারল্যান্ড তাদের মধ্যে সংযোগ সেতুর ভূমিকা পালন করে থাকে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ায় অনেকে আশঙ্কা করছেন দুই দেশের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র গ্যারেট মারকুইস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত চায় না।

তিনি ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চান।

অবশ্য, ৪০ বছর ধরে ইরান সহিংস অবস্থান বজায় রেখেছে।

আমরা ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ ও নাগরিকদের সুরক্ষা দিয়ে যাবো।’

হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ দুই নেতা বৃহস্পতিবার আলোচনা করেছেন মধ্যপ্রাচ্য ও ভেনেজুয়েলা সংকটসহ ‘আন্তর্জাতিক ইস্যু’তে।

ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘ফক্স এন্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, কোনও বিরোধ নেই ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের মধ্যে। তিনি ভিন্ন মতকে স্বাগত জানিয়ে থাকেন।

সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা দলের সবার কাছ থেকে তথ্য ও পরামর্শ নেবেন তিনি।

এরপর মার্কিন জনগণের জন্য মঙ্গলজনক ও নিরাপদ কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।’