ঝলসে গেছে বিপন্ন প্রজাতির বানর

0
157

OURBANGLANEWS DESK।

মৌলভীবাজার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পশু-পাখিরা লোকালয়ে চলে আসছে থেকে বন উজাড়, মানুষের বনের ভেতরে অবাধে বিচরণ এবং খাদ্য সঙ্কটের কারনে।

এতে করে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী, মানুষের হাতে ধরা পড়ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে তারা মারা পড়ছে।

২৩ জুন রোববার, দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরে ভানুগাছ রোডের বিদ্যুতের তারে একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর ঝলসে গুরুতর আহত হয়েছে। পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বানরটিকে উদ্ধার করে।

ব্যক্তি উদ্যোগে গড়া বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জণ দেব জানিয়েছেন,

সম্প্রতি লজ্জাবতী বানর ছাড়াও বেশ কয়েকটি অজগর ও শঙ্খিনী সাপসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, একটি লজ্জাবতী বানর কে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর সেবা ফাউন্ডেশনে সুচিকিৎসা চলছে।

বানরটির বাম হাতের একটি অংশ বৈদ্যুতিক তারে ঝলসে গেছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না বানরটি।

তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জাবতী বানর বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির একটি প্রাণী।

মূলত খাদ্যসংকটের কারণে লজ্জাবতী বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।

মানুষ এসব বন্যপ্রাণীদের হঠাৎ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বা আমাদের ফোন করে।

আমরা গিয়ে এসব প্রাণী উদ্ধার করে আমাদের সেবা ফাউন্ডেশনে প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রুষা করে পুনরায় বনে অবমুক্ত করি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন,

‘লজ্জাবতী বানরের প্রধান খাবার হচ্ছে পোকামাকড়। দ্বিতীয়ত ওরা বিভিন্ন গাছের আঠা বা গাম খায়।

ওরা নিশাচর প্রাণী তাই দিনের বেলা বড় গাছপালা না থাকার কারণে ওদের লুকানোর জায়গা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।

যখনি সে ছোট গাছে লুকোতে যায় তখনি লোকজনের নজরে পড়বে। লোকজনের নজরে পড়লেই তারা লজ্জাবতী বানরকে ধরে ফেলে।

লাউয়াছড়া বনে বড় গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে লজ্জাবতী বানরদের লুকানোর জায়গা একবারে কমে যাচ্ছে। ফলে তারা মানুষের হাতে ধরা পড়ছে।’