জীবনের বৈপরীত্য “শ্যামল ছায়া- দালানকোঠা”।

0
334

মাহিন, কালের সমাচার।

১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার এর বাংলাদেশে নগর, জেলা শহর যেমন আছে তেমনি আছে উপ শহর আর গ্রাম।

বাংলাদেশের শহর যেমন জীবন যাত্রার সব উপাদান নিয়ে হাজির ঠিক তেমনি বৈচিত্র আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার ভান্ডার নিয়ে তৈরি আছে গ্রামগুলো।

তুলনামুলক শহরের ইট, কাঠ, পাথরের জীবন থেকে অনেক বেশী শান্তির গ্রামের নির্মল হাওয়া আর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ওই অপরূপ সৌন্দর্য আর মাটির টানে বার বার ফিরে যায় শহরের মানুষেরা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রাম নদী কেন্দ্রিক। নদী ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল, পুকুর। পানির সাথে তাই গ্রামের ছেলেমেয়েদের খুব সখ্যতা। তারা নিত্য দিন খেলা করে পানি নিয়ে।

এই সুযোগ শহরের ছেলে-মেয়েরা খুব কমই পায়। গ্রামের ছেলেমেয়েদের সকাল শুরু হয় ভোরের আলোয়, মরোগের ডাক শুনে।

শহরে মরোগের ডাক আর ভোরের আলো অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। শরীরের মা অথবা বাবার সাথে গাড়িতে, বা রিক্সায় করে বিদ্যালয়ে যায়।

গ্রামের শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তির পর মা-বাবার সাথে যাওয়ার সৌভাগ্য আর হয় না। সকাল হলে দল বেধে স্কুলে যায় তারা।

শহরের ছেলেমেয়েরা যেন অল্পতেই হাপসে যায়। স্কুল থেকে কোন মতে ফিরে তাদের আর কিছু করার এনার্জি থাকে না।

টিভি চালু করে বসে পড়ে পছন্দের কার্টুন শো দেখতে অন্যদিকে গ্রামের ছেলেমেয়েদের জীবন কার্টুন শো এর থেকে কম নয়। বিদ্যালয় ছুটির পর টো টো করে ঘুরে বাড়ি ফিরে।

যদিও শহুরেদের মতো তাদের টিফিন নেয়া হয় না তবুও তাদের খিদা লাগে না। বাড়ি ফিরে খেলতে যাওয়ার তাড়া। দুপুরের খাওয়ার সময় শহরের বাচ্চাদের মা কতো চেষ্টা করে খাওয়াচ্ছেন তার সন্তানকে, কিছুতেই যেন সে খুশি হচ্ছে না।

ঠিক তখন গ্রামের শিশুটাকে তার মা হয়ত ভালো কোন খাবার দিতে পারছে না। তবুও কোন অভিযোগ নেই তার।

পরম যত্নে খাওয়া শেষ করে বের হয় খেলতে। ওদের বিকালের ঘুম লাগে না। সারাদিন টই টই করে ঘুরে বেড়ানো ওদের কাজ।

সন্ধ্যা হলে অবশ্য শহর গ্রাম সব খানের বাচ্চার পড়তে বসে। তবে গ্রামের বাচ্চারা পড়তে বসলে মা পাশে বসে থাকে না।

কেউ নাস্তা বানিয়েও আনে না। তবুও তাদের জীবনে কোন কষ্ট নেই। তারা সব কিছু নিয়ে খেলা করে। মাটি নারতে তাদের নিষেধ নাই। তারা ঘুড়ি ওড়ায়। ফড়িং এর পেছনে সুতা বেঁধে ওড়ানোর আনন্দটা শুধু তারাই জানে। অন্ধকারে তাদের ভয় নেই।

জোনাকির আলোয় তারা পথ চিনে নেয়। তাদের শুধু কষ্ট হয় যখন বিদ্যালয় বন্ধ থাকে, যখন কাছের বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না।

এরকম অনেক ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুজে নেয় তারা যার সুযোগ হয়ত শহরের ছেলেমেয়েরা পায় না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে