জাবির হলে তালাবদ্ধ ট্রাংকে নবজাতকের মৃত্যু

0
152

OURBANGLANEWS DESK।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এর বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের ৪২৬ নম্বর কক্ষে একটি নবজাতক প্রসব করেন সেই কক্ষের একজন ছাত্রী। প্রসবের পর নবজাতকটিকে লুকিয়ে রাখেন নিজের ট্রাংকে।

ট্র্যাংকটিকে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সেই ছাত্রী। অন্য ছাত্রীরা কান্নার শব্দ পেলে ট্রাংকের তালা ভেঙে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে নবজাতকটিকে একই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৬ মার্চ, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে রাত পৌনে ১০টার দিকে মৃত্যু হয় নবজাতকটির। তবে আশঙ্কামুক্ত আছে নবজাতকের মা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আনুমানিক দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতকটি প্রসব করে। কাউকে না জানিয়ে সে নবজাতকটিকে লুকিয়ে রাখে নিজের ট্র্যাংকে।

তাঁর রুমমেট রুমে আসলে সে তাঁকে শুধু প্রসব বেদনার কথা জানান। তখন অন্যান্য ছাত্রীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসা কেন্দ্রের নার্স এসে পরীক্ষা করে তাঁকে এনাম মেডিকেলে নিতে বললে, সিকগার্লদের সহায়তায় নেওয়া হয় এনাম মেডিকেলে।

অসুস্থ ছাত্রীটিকে হাসপাতালে পাঠানোর পর ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় ছাত্রীরা। খোঁজাখুঁজি একপর্যায়ে বুঝতে পেরে হল প্রশাসন ট্র্যাংকের তালা ভেঙে উদ্ধার করে নবজাতকটিকে ।

উদ্ধার এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় নবজাতকটিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সময় দেখা যায় নবজাতকের শরীর নীলচে আকার ধারণ করছে। পরে শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেলে পাঠায় কতৃপক্ষ।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক, আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ জানান, ‘বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।’

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান জানান, ‘ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ছাত্রীরা যখন বলছিলো ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

তখন ৪২৬ নম্বর রুমে গিয়ে ট্র্যাংকের তালা ভেঙে বাচ্চাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যাই। রাত পৌনে ১০টার দিকে বাচ্চাটি মারা যায়। তবে বাচ্চার মা ওই ছাত্রী আশঙ্কামুক্ত।’

তিনি আরও জানান, ‘তথ্য গোপন করে মেয়েটি অপরাধ করেছে। এই ঘটনা তদন্তের জন্য হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে