জাকারবার্গ এখন ভীষণ চাপে

0
175

জাকারবার্গ এখন ভীষণ চাপে

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক মন্তব্যে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফেসবুক কর্মীরা তাঁদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। একই সাথে টুইটারের সাহসিকতা ও স্বচ্ছ অবস্থানের প্রশংসা করে তারা নিয়োগকর্তাকে তিরস্কার করছেন।

ফেসবুক, গুগল, আমাজনের মতো অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে সাম্প্রতিককালে অনেক সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের নীতিমালা পরিবর্তন করে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ‘বর্তমান মার্কিন পরিস্থিতিতে ফেসবুকের শীর্ষ পর্যায়ের সাতজন কর্মীর মধ্যে তিনজন প্রকাশ্যে জাকারবার্গের সমালোচনা করেছেন’।

ফেসবুক নিউজ ফিডের পণ্য নকশা বিভাগের পরিচালক রায়ান ফ্রেইটিস বলেছেন, ‘মার্ক ভুল করেছেন। আমি তাঁর মন পরিবর্তনের জোর প্রচেষ্টা চালাব।’

তিনি জানান, এ কাজে তিনি ৫০ জনের বেশি সমমনা কর্মীকে পাশে পাচ্ছেন। তাঁরা অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের জন্য লবিং চালাবেন।

পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জেসন টফ বলেন, ‘আমি ফেসবুকে কাজ করি। আমাদের যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এতে আমি গর্বিত নই। বেশির ভাগ সহকর্মী একই রকম অনুভূতির কথা বলেছেন। আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করব’।

ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্টি স্টোন বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ লোক বিশেষত আমাদের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায় যে বেদনা অনুভব করছে, তা আমরা স্বীকার করি। আমরা কর্মীদের নেতৃত্বের সঙ্গে একমত না হলে প্রকাশ্যে কথা বলতে উৎসাহিত করি’।

শুক্রবারে টুইটারের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের একট টুইট বার্তায় সতর্কীকরণ লেবেল সেঁটে দেওয়া হয়। সেই টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘লুটতরাজ হলে গুলিও চলবে’। টুইটার বলছে, ‘ট্রাম্পের এই টুইট তাদের সহিংস নীতিমালা ভেঙেছে’।

গত ২৫ মে, জর্জ ফ্লয়েড (৪৬) নামে আফ্রিকান- আমেরিকান এক ব্যক্তিকে আমেরিকার মিনেপোলিসে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নির্যাতন করেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন। এতে সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে পুরো আমেরিকা জুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে। বর্ণবাদবিরোধী ক্ষুব্ধ মানুষের উত্তাল আন্দোলন থামছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমেরিকার অন্তত ৪০ টির বেশি নগরে কারফিউ জারি করতে হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। শুক্রবার এক পোস্টে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ‘তিনি মনে করেন, মন্তব্যটি গভীরভাবে আপত্তিজনক হলেও তা সহিংসতার জন্য উসকানি দেওয়ার বিরুদ্ধে কোম্পানির নীতি লঙ্ঘন করেনি এবং জনগণকে জানতে হবে যে সরকারের বল প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে কি না’।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে