জর্জ ফ্লয়েড কে!!

0
216

জর্জ ফ্লয়েড কে!! 

যে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে আমেরিকা জুড়ে উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে। সেই জর্জ ফ্লয়েডের ওপর পুলিশি নির্মমতার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি নিঃশ্বাস নেবার জন্য হাঁসফাঁস করছেন। তাকে মাটিতে শুইয়ে একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার তার গলায় নিজের হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছেন। এ সময় জর্জ ফ্লয়েড বারবার বলছিলেন, “আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ব্যাপক প্রতিবাদের পর সেই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা আনা হয়েছে।

জর্জ ফ্লয়েড বড় হয়ে ওঠেন টেক্সাসের হুস্টনে শহরের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায়।

তার জীবনের ৪৬ বছর ছিল ভাল-মন্দের সংমিশ্রণ। জর্জের খেলাধূলায় আগ্রহ ছিল। তরুণ বয়সেই আমেরিকান ফুটবলবার হিসাবে তার বেশ নামডাক হয়েছিল। ১৯৯২ সালে টেক্সাস স্টেট চ্যাম্পিয়ানশিপে তার স্কুলের দল- ইয়েটস হাই স্কুল লায়ন্স রানার্স আপ হয়েছিল।

১৯৯০এর দশকে তিনি হুস্টনে হিপহপ সঙ্গীত গোষ্ঠির সদস্য হিসাবেও বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু দারিদ্র, বর্ণবৈষম্য, এবং অর্থনৈতিক অসাম্য তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সামাজিক বঞ্চনার শিকার বহু আফ্রিকান- আমেরিকান তরুণের মতো জর্জ ফ্লয়েডও গোষ্ঠি সহিংসতা, এবং আফ্রিকান আমেরিকান গোষ্ঠির বাসস্থানের সংকট নিয়ে নানা সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।

তার ছেলেবেলার বন্ধুরা বলেছেন, বিশাল দীর্ঘদেহী জর্জ ফ্লয়েড একজন প্রতিভাবান অ্যাথলেট ছিলেন। তার বন্ধুরা বলেছেন, ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার জর্জ আমেরিকান ফুটবল আর বাস্কেটবলে তুখোড় ও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন।

তার এক বাল্যবন্ধু জনাথান ভিল বলেছেন, ‘এত লম্বা কাউকে আমি দেখিনি। ১২ বছর বয়সে জর্জ ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা ছিল’। তার বর্ণনায় জর্জ একজন, ‘দৈত্যকায় নরম মনের মানুষ’ ছিলেন।

সিএনএন বলছে, ‘জর্জ ফ্লয়েড যখন ফ্লোরিডা স্টেট কলেজে পড়তে যান, (১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫) তখন তিনি স্কুলের বাস্কেটবল দলে ফ্লোরিডা রাজ্যের তরুণ টিমে প্রতিনিধিত্ব করেছেন’।

এরপর তিনি আবার হুস্টনে তার স্কুলে ফিরে যান, এরপর তিনি টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলে ও তিনি ডিগ্রি কোর্স শেষ করেননি।

জর্জ এসময় অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েন। চুরি এবং অবৈধ মাদক রাখার অভিযোগে তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়। সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে ২০০৭ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে পাঁচ বছরের জন্য কারাভোগ করতে হয়।

তবে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জর্জ নিজের জীবন শোধরাতে চেষ্টা করেন। স্থানীয় এক গির্জার মাধ্যমে তিনি নিজেকে সামাজিক কাজে জড়ান।

২০১৭ সালে তরুণদের সহিংসতা বন্ধের ডাক দিয়ে তিনি একটি ভিডিও তৈরি করেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ভিডিওটিতে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সহিংসতা ছেড়ে দিয়ে ঘরে ফিরে এসো’, এমনটাই জানিয়েছেন, তার সহপাঠী ও বন্ধু ক্রিস্টোফার হ্যারিস।

আমেরিকার মিডিয়াকে মি. হ্যারিস বলেন, “মি. ফ্লয়েড আবার নতুন করে জীবন গড়ে তোলার, নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তার প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি খুশি ছিলেন”।

স্যালভেশন আর্মির একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে তিনি নিরাপত্তা কর্মীর কাজ নিয়েছিলেন। এরপর লরি চালকের কাজ নেন এবং একটি পানশালায় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করেন। সেখানে সবাই তাকে ‘বিগ ফ্লয়েড’ বা দীর্ঘদেহী ফ্লয়েড নামে ডাকত।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর পানশালা বন্ধ হয়ে যাওযায় বহু আমেরিকানের মত জর্জ ফ্লয়েডকেও ছাঁটাই করা হয়।

যেদিন তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ও পুলিশের অত্যাচারের ফলে তাকে প্রাণ দিতে হয়, সেদিন পুলিশের অভিযোগ ছিল, জর্জ ফ্লয়েড বিশ ডলারের একটি জাল নোট ব্যবহার করে সিগারেট কেনার চেষ্টা করছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে