ছাত্রের লাশ উদ্ধার মাদ্রাসা থেকে।

0
152

OURBANGLANEWS DESK।

পুলিশ চট্টগ্রামে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী, হাবিবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করেছে।

বুধবার ১০ এপ্রিল রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয় নগরের বায়েজীদ বোস্তামী থানার ওয়াজেদিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে।

লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

জামেয়া ওমর ফারুক আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল নিহত হাবিবুর। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় তার বাড়ি।

সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক বাবা আনিসুর রহমান। নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় পরিবারের নিয়ে থাকেন তিনি।

আনিসুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক তারেক আহমেদ চার দিন আগে তাঁর ছেলেকে মারধর করেন।

তাঁর ছেলে মাদ্রাসা থেকে এ কারণে বাসায় চলে আসে। তাকে পরদিন বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফের মাদ্রাসায় পাঠানো হয়।

গতকাল মাদ্রাসা থেকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, মাদ্রাসায় হাবিবুরকে পাওয়া যাচ্ছে না। হাবিবুরের আত্মীয়স্বজন মিলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করা হয়।

তবে তাকে পাওয়া যায়নি কোথাও। মাদ্রাসা থেকে রাত নয়টার দিকে ফোন আসে। জানানো হয় তাঁকে, মাদ্রাসার একটি কক্ষে হাবিবুর আত্মহত্যা করেছে

জানালার গ্রিলের সঙ্গে গামছা লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে। সেখানে গিয়ে দেখেন, লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ।

অভিযোগ আনিসুর রহমানের, আত্মহত্যা করতে পারে না তার ছেলে। তার আত্মহত্যা করার বয়স হয়নি। মেরে ফেলা হয়েছে তাকে।

চার দিন আগে পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক তারেক তার ছেলেকে মারধর করেছেন। ওই শিক্ষক রাগের বশে এবারও মেরে ফেলেছেন তার ছেলেকে।

তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান। মামলা করবেন ময়নাতদন্তের পর।

তারেক আহমেদ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাবিবুর গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলাধুলা করে মাদ্রাসায়।

অন্য শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর দেখা গেলেও পাওয়া যায়নি হাবিবুরকে। পরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে তার লাশ পাওয়া যায় মাদ্রাসার চতুর্থ তলার একটি কক্ষে।

তিনি বুঝতে পারছেন না কেন হাবিবুর আত্মহত্যা করেছে। তিনি হাবিবুরকে সামান্য কয়েকটি বেতের বাড়ি দিয়েছিলেন চার দিন আগে।

আতাউর রহমান খন্দকার বায়েজীদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বোঝা যাচ্ছে না এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা।

বিষয়টি স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর। এ ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে হত্যার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে