ছাত্রী উত্যক্ত করায় হাতের কব্জি কেটে দিলেন শিক্ষক।

0
135

OURBANGLANEWS DESK।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্ত করা

এবং শিক্ষকদের চেয়ারে বসায় মাদ্রাসা শিক্ষক সেই মাদ্রাসাছাত্রের হাতের কব্জি কেটে দিয়েছেন।

বর্তমানে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, গত ১২ জুন, উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন এর নারিকেল বাড়িয়া,

জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেন ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. সাব্বির হোসেনের (১৪) হাতের কব্জি কেটে দেন।

নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের অটোরিকশা চালক, মো. আবদুল আলিমের ছেলে আহত সাব্বির এবং একই এলাকার, মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে শিক্ষক ফোরকান হোসেন।

জানা যায়, গত ১২ জুন বুধবার , বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে।

এ ঘটনার পর ওই শিক্ষক আহত সাব্বিরের, চিকিৎসার ভার নেন ও আশ্বাস দেন স্থানীয়ভাবে এ ঘটনার মিমাংসা করা হবে।

এ ঘটনার আট দিন পর, শিক্ষার্থীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা গেলে গত শুক্রবার সাব্বিরের পরিবার আহত সাব্বিরকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, সে তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে ঘটনার দিন একটি শ্রেণিকক্ষের চেয়ারে বসেছিল।

মাদ্রাসার দরজা-জানালা না থাকায় ওই শিক্ষক এ ঘটনা দেখে ফেলে এবং এ কাজের জন্য ওই শিক্ষক তাদের গালি দেন ও চড়-থাপ্পড় মারেন।

ওই শিক্ষক হাতে থাকা দা দিয়ে এক পর্যায়ে কোপ দেন, এতে সাব্বিরের বাম হাতের কব্জি কেটে যায়।

সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম জানান, শিক্ষকের দায়ের কোপে সাব্বির আহত হওয়ার পর তাকে স্থানীয় ফার্মেসিতে চিকিৎসা করানো হয়। ক্ষতস্থানে পরে সংক্রমণ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে অভিযোগ করেন, সাব্বির তার কয়েকজন বখাটে বন্ধু কে নিয়ে বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিলো।

ঘটনার দিনও সে তাঁর বন্ধুদের নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের চেয়ারে বসে, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্ত করছিলো।

শিক্ষক ফোরকান হোসেন অভিযোগের বিষয়ে জানান, সাব্বিরকে তিনি কোপ দেননি। মাদ্রাসা ঘটনার দিন বন্ধ ছিল।

তিনি মাদ্রাসার পাশে একটি সবজি ক্ষেতে কাজ করছিলেন। তখন সাব্বির এবং তার দুই বন্ধু মাদ্রাসার ভেতরে শিক্ষক এর চেয়ারে বসে, টেবিলে শব্দ করে গান-বাজনা করছিল।

সাব্বিরের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ছাত্রীদের বিভিন্ন সময় উত্যাক্তের অভিযোগ ছিল।

তাই সেখানে গিয়ে, সাব্বিরকে চলে যেতে বলা হলে সাব্বির এবং তার বন্ধুরা চড়াও হয় এবং এতে কথাকাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার হাতে থাকা দায়ে সাব্বিরের হাত কেটে যায়।

তিনি এও বলেন সাব্বিরের সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সে বহন করবেন।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনার খবর শুনিনি।

লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তবুও এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।’