ঘর পাচ্ছে ফণী’র পরিবার।

0
145

OURBANGLANEWS DESK।

দেশে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘূর্ণিঝড় ফণী তবে আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে খুলনার দাকোপের মাসুম গাজীর পরিবারের কাছে।

মাসুম গাজীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমী ঘূর্ণিঝড় ফণীর রাতে চালনা পৌরসভার মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন।

সেখানে তিনি কন্যাশিশুর জন্ম দেন। তার নাম রাখা হয় ‘ফণী আক্তার’।

খবর পেয়ে তাদের খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে নগদ টাকা ও পাকা ঘর দেওয়া হয়। এতে ফণী পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে।

ফণীর বাবা মাসুম গাজী জানান, ফণীর জন্মে তাদের ভাগ্য বদলে যাচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা উপহার পাচ্ছেন খাসজমি ও বাড়ি। প্রশাসন বাড়ি তৈরি শুরু করেছেন। তাদের দ্বিতীয় সন্তান ফণী।

প্রথম সন্তান মাসুমার বয়স পাঁচ বছর। তারা ওয়াপদা বাঁধের ওপর বসবাস করতেন।

তিনি আরও জানান, ৩ মে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ফণীর জন্ম হওয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে দাকোপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

সেখান থেকে ৫ মে মা ও মেয়েকে বাড়িতে আনা হয়। ৬ মে প্রশাসন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় উপহারসামগ্রী সহ বাড়ি দেওয়ার।

৭ মে প্রশাসন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ফণীর পরিবারটি ওয়াপদার ওপর ঘর করে বাস করছে।

এ পরিবারের জন্য পাশের একটি খাসজমিতে ঘর তৈরির কাজ মঙ্গলবার শুরু করা হয়েছে,

যা দ্রুত সম্পন্ন করে ফণীর পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।‘

উপজলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উপজলার চালনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুম গাজী

৩ মে শুক্রবার ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমী বেগমকে নিয়ে,

স্থানীয় মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা উঠলে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত অন্যান্য মহিলা ও উপজলা সহকারী কমিশনার ভূমি,

ডা. সঞ্জীব দাশের সহযাগিতায় নবজাতক শিশুটি রেশমীর কোলজুড়ে আসে।

সোমবার বিকাল ৫টায় খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল ওয়াদুদ রেশমীর বাড়িতে শিশুটিকে দেখতে যান।

তিনি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ফণীর পরিবারের হাতে নগদ টাকা ও নতুন পোশাক তুলে দেন।

এছাড়া প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি করে দেওয়ার। ইতোমধ্যে ঘর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।